সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক উত্তাল ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পতনের দাবিতে রাজধানী তেল আবিবের সড়কে নেমেছে মানুষের ঢল। গাজায় নিহত শেষ জিম্মি রন গিভিলির দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার দাবি বিক্ষোভকারীদের।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন জোট রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিচারিক সংস্কার পরিকল্পনারও বিরোধিতা করেন। আদালতের ক্ষমতা খর্ব করাই এর লক্ষ্য করে অভিযোগ তাদের।
তাদের দাবি, গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো হামাসের ঐ হামলার কোনোরকম দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। যার প্রতিবাদে তেল আবিবের সড়কে নেতানিয়াহু বিরোধী পোস্টার হাতে চলে ব্যাপক আন্দোলন-স্লোগান।
ইসরায়েলের পতাকা শরীরে জড়িয়ে, নেতানিয়াহুর ব্যাঙ্গাত্বক মুখোশ পরে প্রতিবাদে নামে আন্দোলনকারীরা। হামাসের হাতে জিম্মি শেষ ইসরায়েলির মরদেহ ফেরতের দাবিও জানানো হয় আন্দোলনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনে সরকারের অস্বীকৃতির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে এদিন ভাষণ দেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান মোশে ইয়ালোন। তিনি চলতি সপ্তাহে ইরানে সংঘটিত ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশটির ‘কর্তৃত্ববাদী শাসন’র সঙ্গে ইসরাইল সরকারের তুলনা করেন, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইয়ালোনকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট বলছে, ইসরায়েলের সামনে কোনো বাহ্যিক অস্তিত্বগত হুমকি নেই, কিন্তু অভ্যন্তরীণ হুমকি আছে।
চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, বেন গভির দেখছেন যে, সেখানে (ইরানে) কীভাবে শাসকগোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করছে এবং এতে সে ঈর্ষান্বিত।
এছাড়া গিভিলি পরিবারের নিজ শহর মেইতারেও একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।