আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হলে তার দায় প্রধান উপদেষ্টার ওপরও বর্তাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কা বাড়াচ্ছে।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘ইসি যদি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে, তাহলে নির্বাচন নিয়ে অনিবার্যভাবে শঙ্কা তৈরি হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এর দায় প্রধান উপদেষ্টার ওপরও আসবে।
দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও ছাত্রদল নির্বাচন কমিশনের সামনে মব তৈরি করে চাপ সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত এসেছে। দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিক- এটা আমরা চাই না। এ বিষয়ে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তার দেশে আসার সময় পুরো ঢাকাজুড়ে ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হয়েছিল, কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একইভাবে খালেদা জিয়ার শোকসভা উপলক্ষে বিভিন্ন নামে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নির্বাচনকে ঘিরে সমান সুযোগ, আইনের শাসন ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান বলেছিলেন- আই হ্যাভ আ প্ল্যান। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান (নির্বাচন কমিশন) ইসি। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা কি তারেক রহমানের পরিকল্পনা? মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করা কি তার পরিকল্পনা?’
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, কমিশন সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং গণভোটের বিরোধিতা করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রয়োজনে কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। তবে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতে যেতে চায় না এনসিপি।
নাহিদ ইসলামের মতে, নির্বাচন কমিশন যদি সব রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করতে না পারে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করা যায় না। ইসি যদি মনে করে দেশে একটিই দল রয়েছে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হব।
সবশেষে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ সম্ভব নয়। এই নির্বাচন ২০০৮ সালের মতো হবে না; এবারের নির্বাচন হবে ১৯৯১ সালের মত।
দশ দলীয় জোটের আসন চূড়ান্ত করার বিষয়ে তিনি জানান, জামায়াত-এনসিপির যেসব প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন না, তারা মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার পর জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হবে।
এ সময় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, আগের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো এবারও দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সজীব ভুঁইয়া বলেন, নীতিমালা ও আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য না হলে নির্বাচন কমিশন ও পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ইলেকশন কমিশনের আচরণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হচ্ছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আস্থা কমছে।
গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। এই পরিস্থিতি চললে দল ও জোট ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবে। তবে লক্ষ্য আন্দোলন নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন। কোনো পরিকল্পিত বা ইঞ্জিনিয়ারড নির্বাচন মানা হবে না।