• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণ চুক্তির সংশোধনী প্রোটোকলে অনুমোদন পুতিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ১৫০ বার
আপডেট সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় ঋণ চুক্তির সংশোধনী প্রোটোকলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই অনুমোদনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলমান প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত জটিলতাগুলো কাটতে যাচ্ছে।
রুশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশের দেওয়া ঋণ সংক্রান্ত চারটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুসমর্থন করে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল আইনে স্বাক্ষর করেছেন পুতিন। এর ফলে প্রকল্পের অর্থায়ন ও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার এবং পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি পেল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ডুমা এবং ফেডারেল কাউন্সিলে পাস হওয়া এই নতুন সংশোধনীতে মূলত তিনটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডলারের মাধ্যমে লেনদেনে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে নতুন একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন থেকে ডলারের পরিবর্তে অন্য কোনো মুদ্রায় (যেমন ইউয়ান বা রুবল) বা বিকল্প উপায়ে লেনদেন করা যাবে।
ঋণ গ্রহণের মেয়াদ বা ‘লোন অ্যাভেইলেবিলিটি পিরিয়ড’ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নির্মাণ কাজের বাকি অংশের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে, ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণে যে বকেয়া এবং জরিমানা জমা হয়েছিল, তা মওকুফ করার বিষয়ে প্রোটোকলগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রুশ উপ-অর্থমন্ত্রী ভ্লাদিমির কলিচেভ জানিয়েছেন, এই সংশোধনীগুলোর ফলে গত বছর রাশিয়ার ফেডারেল বাজেটে প্রায় ৪৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রাজস্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে বন্ধুপ্রতীম নয় এমন দেশের মুদ্রা ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত মূল চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ বা ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’ এই প্রকল্পে ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার জন্য এটি সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প।
রুশ ফেডারেশন কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির প্রথম উপ-প্রধান সভেতলানা ঝুরোভা বলেন, এই অনুসমর্থন বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে নিতে সাহায্য করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের পরমাণু শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে, যা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও

Archive Calendar

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728