রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বোরকা পরে এসে ইব্রাহিম নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সমন্বয়ককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।রোববার রাতে মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ডের ময়ূর ভিলার পাশের ঢালে একটি চা দোকানে এই ঘটনা ঘটে। ইব্রাহিম জুলাই হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণেই তার উপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
অন্যদিকে সারাদেশে সন্ত্রাসীমূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত ফ্যাসিস্টদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা পতিত আওয়ামীলীগের অফিস খোলার নামে দেশে অরাজকতা তৈরির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে
ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে। আইন-শৃংখলা বাহিনী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তেইনকিলাবকে জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রমে উচ্চ আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরই মধ্যে আদালতের আদেশ অমান্য করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলার নাম করে বিশৃংখলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।আদালতের আদেশ অমান্য করে কেউ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে সেজন্য সোমবার সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সারাদেশে আইন-শৃংখলা রক্ষার সাথে জড়িত বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নজরদারী করছেন।
নতুন করে কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার রাতে মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ডের পাশে আল মদিনা টি স্টলে বসে চা খাচ্ছিলেন
ইব্রাহিম। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত বোরকা পরে এসে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ইব্রাহিমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার এক হাতের কনুই প্রায়
বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। হামলার পর তারা দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। ইব্রাহিম বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায়
চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেসবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আমাদের টিম কাজ করছে। আশা করছি খুব শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনতে পারব। ইব্রাহিমের স্বজনদের দাবি, জুলাই হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণেই তার উপর হামলা করা হয়েছে। আর পুলিশ বলছে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে একটি গ্রুপ দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।