দেশে জঙ্গিবাদ নেই, তবে ফ্যাসিস্ট জঙ্গি রয়েছে, যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। বর্তমানে জঙ্গিবাদ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে ফ্যাসিস্ট জঙ্গি রয়েছে, যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছে। বিদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব ফ্যাসিস্ট জঙ্গিকে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের যেসব লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, সেগুলো নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যবহার করা যাবে না- এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। সীমান্ত দিয়ে কিছু অস্ত্র প্রবেশের চেষ্টা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত সেগুলো উদ্ধার করছে।
তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচনকালীন বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো দুষ্টচক্র সহিংসতা সৃষ্টি করতে না পারে।
পুলিশের মধ্যে ভয় কাজ করছে- এমন অভিযোগ নাকচ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের মধ্যে কোনো ভয় নেই। বরং তারা আরও উদ্যম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে।
পুলিশ কমিশন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আইন জনগণের স্বার্থে প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি জনবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়; তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে।
এর আগে, সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী।
২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এদিন প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএসের একজন, ৩৫তম বিসিএসের তিনজন, ৩৬তম বিসিএসের একজন, ৩৭তম বিসিএসের দুইজন এবং ৪০তম বিসিএসের দুইজন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন- শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মণ্ডল। প্রশিক্ষণে সামগ্রিক কৃতিত্বের জন্য বেস্ট প্রবেশনার নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড পান মো. সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটার নির্বাচিত হন সালমান ফারুক।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়ন করা হবে।