আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা ৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো আছে তবে, পরবর্তীতে কি হবে জানি না। কিছু প্রার্থীর কার্যকলাপ ও চালচলনে মনে হচ্ছে তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করবে। নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী কিছু লোককে জয়ী করার জন্য পাগল হয়ে গেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিনগর ইস্টার্ণ প্লাস মার্কেটে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এরপর পুরানা পল্টন বধির স্কুলে একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
বিকালে তিনি শান্তিনগর বাজার ও পীর সাহেবের গলিতে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন।
রাতে তিনি চামেলীবাগ গ্রীন পিছ এ্যাপার্টমেন্ট মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
নির্বাচনের মাঠে নতুনদের স্বাগত জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, আশা করি, তারা নির্বাচনে আইন মেনে কাউকে ব্যক্তিগত আঘাত করে কথা না বলে। মানুষ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে আল্লাহর নাম নেয়। আমার এখানে এমন একজন প্রার্থী আছেন যিনি প্রথমেই আমার নাম নেন। অতীতে আমি এর চেয়ে অনেক শক্ত ও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে নির্বাচন করেছি। কিন্তু আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করিনি।
তিনি বলেন, এখন সারাদিন শুধু আমার নামে বিষোদগার। আমার সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় কথা বলছে, আমাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে। ওরা বুঝিনি আমি জীবনে বহু নির্বাচনের মুখোমুখি করে এসেছি। আবারও বলছি ওরা বাচ্চা ছেলে। আমার সন্তানের মত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে উচ্ছ্বাস ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারী তার প্রতিফলন ঘটবে।
বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য সম্ভব সবকিছু করার আশ্বাস
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ঢাকা বধির হাইস্কুলে বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন মির্জা আব্বাস। বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার বধির জনগোষ্ঠী আয়োজিত এ সভায় প্রায় ২০০ জন বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নিজেদের বিভিন্ন দাবি–দাওয়া লিখিতভাবে মির্জা আব্বাসকে জানান বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। এসময় বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে, তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, সবকিছু করা হবে বলে জানিয়েছেন মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়। তারা আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই ভাই, আমাদেরই আত্মীয়। তোমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য, তোমাদের জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্য আমাদের যা করা দরকার, একজন মানুষ হিসেবে উপলব্ধি করে নির্বাচনের পরপরই আমরা সেই ব্যবস্থা শুরু করব, ইনশাআল্লাহ।
মির্জা আব্বাস বলেন, তোমাদের দাবি দিয়েছো, এতে তোমাদের হবে না। তোমাদের আরও অনেক অনেক প্রয়োজন আছে। যেগুলো তোমরা লিখতে পারো নাই। এ প্রয়োজনটা আমরা বুঝি। যদি এমন কেউ থাকে, চিকিৎসা করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে, সেটি যদি সরকারিভাবে সম্ভব না–ও হয়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সহযোগিতা করবেন।
তিনি বলেন, একজন মানুষ, একটি বাচ্চার মুখেও কথা ফোটাতে যদি তিনি সহযোগিতা করতে পারেন, সেটিই হবে তার জীবনের সার্থকতা।