জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) গঠনের সময় পদ-পদবির বিরোধে বেরিয়ে যাওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতারা দলটিতে ফিরছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক দুই সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ, রাফে সালমান রিফাত এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে শিবিবেরর সাবেক এই দুই নেতাসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, আপ বাংলাদেশ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)- এই তিন সংগঠনের ৪৫ জন নেতা-কর্মী এনসিপি যোগদান করেছেন।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি গঠনের সময় পদ-পদবি এবং দলীয় আদর্শ কী হবে- এ নিয়ে টানাপোড়েনে দলটিতে আসেননি শিবিরের ওই দুই নেতা। দুই মাস পর গঠন করেন আপ বাংলাদেশ।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
যোগদানকারী নেতা-কর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- ঢাবি শাখার শিবিরের সাবেক সভাপতি ও আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত, মুখপাত্র শাহরিন ইরা; এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক; বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, লিগ্যাল সেল সম্পাদক মাহফুজ এবং কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট।
এ ছাড়া আয়মান জাহান, হাসান তানভীর, তানভীর আহমেদ মন্ডল, ওয়াহিদ আলম, জাহিদুর রহমান, মোশাররফ হোসেন, মোহাম্মদ জুনায়েদ, সুলতান মারুফ তালহা, তৌসিফ মাহমুদ সোহান, ফারহানা শারমিন সুচি, সাজ্জাদ সাব্বির, মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, আহমেদ করিম চৌধুরী, দিলারা খানম, কাজী সালমান, মোহাম্মদ সোলায়েম হাসান, মুরাদ হোসেন, প্রকৌশলী আবু সাঈদ মোহাম্মদ নুমান, ফয়াজ শাহেদ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমামউদ্দিন রিয়াদ, মোস্তফা কামাল মাহাথির, আরাফাত ই রাব্বি প্রিন্স, কাজী আহনাফ তাহমিদ, মোহাম্মদ শামীম, বদরে আলম শাহিন, মোহাম্মদ নাজমুল হক, মাসুমা বিল্লাহ সাবিহা, ফারজানা আক্তার, তাওহীদুল ইসলাম (জবি), রাকিবুল ইসলাম (জাবি), সাদাত মুত্তাসিম প্রান্তিক (এনএসইউ), মহিউদ্দিন হাসান, মোহাম্মদ নুরুল হাসান ও আল মাহমুদ যোগদান করেছেন। নতুন যোগ দেওয়া নেতোদের মধ্যে পদের দায়িত্ব বন্টন করা হবে বলে জানা গেছে।
গত বছর সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংগঠনটির জোট হওয়ার কথা থাকলেও শেষ সময় তা ভেস্তে যায়। পরে এনসিপি ও এবি পার্টি যায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট বাদে। জামায়াতের সঙ্গে জোট এই ক্ষোবে এনসিপির শীর্ষ নেতারাসহ দলটির প্রায় শতাধিক নেতা পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ গত শনিবারও এনসিপির সংগঠনক পদের একনেত্রী এনসিপির বিরুদ্ধে্য সাধারণ মানুষের আস্তা সংকটের অভিযোগ তুলে পদত্যাক করেন।
দলের নতুন নেতাদের পূর্বে পরিচয় মুখ্য নয় এবংকি ছাত্রলীগের নেতা হলেও সমস্য নেই বলে জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, আমরা এনসিপি গঠিত হওয়ার সময় খুব পরিষ্কারভাবেই বলেছিলাম এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কার কি সাবেক পরিচয় এটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। কে আগে কোন রাজনৈতিক দল বা সংগঠন করে এসেছে। ছাত্রদল হোক, ছাত্রশিবির হোক, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইভেন কি ছাত্রলীগ হোক- কি কার সাবেক পরিচয় এটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আজকে থেকে যখন কেউ এনসিপিতে আসবে সে এনসিপির সংগঠক এনসিপির নেতা-কর্মী হিসেবে কাজ করবে। এনসিপির আদর্শকে ধারণ করে কাজ করবে।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আওয়ামী লীগের জায়গায় কেবল বিএনপি প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সবগুলো প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সব জায়গায় সংস্কারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বিএনপি সরকার তা নষ্ট করে দিচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, তারা কেবল দল বা ব্যক্তির পরিবর্তন নয়, বরং সামগ্রিক ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন চান যেখানে বাংলাদেশ সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন। দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।