বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা জীবনে এনেছে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, যা মানসিকভাবে আরও ইতিবাচক করেছে এবং খেলাতেও উন্নতি ঘটিয়েছে। এমনটিই জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটার লোকেশ রাহুল।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পিতৃত্ব তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়। আগে মনে করতেন জীবনে শান্তি ও সুখ আছে, কিন্তু সন্তানকে কোলে নেওয়ার পরই তিনি প্রকৃত আনন্দ ও প্রশান্তির অর্থ বুঝতে পেরেছেন। তবে মেয়েকে রেখে খেলতে যাওয়াটা তার জন্য কঠিন বলেও স্বীকার করেন তিনি।
রাহুল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বলিউড অভিনেত্রী আথিয়া শেঠিকে বিয়ে করেন। ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।
তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে বিষয়টি সহজ হবে ভেবেছিলেন, কিন্তু মেয়েটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ছেড়ে থাকা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। সুযোগ পেলে খেলা শেষে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরে সময় কাটাতে চান, যদিও সবসময় তা সম্ভব হয় না।
এই ভারতীয় ক্রিকেটারের মতে, পিতৃত্ব তাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে এবং পেশাগত চাপকে ভিন্নভাবে দেখতে সাহায্য করেছে। মাঠ থেকে ফিরে মেয়ের হাসি, আলিঙ্গন ও স্নেহ তাকে সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়—যা তার খেলায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
রাহুল জানান, এখন তিনি আর খেলা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবেন না, ফলে খেলাটা আবার উপভোগ করতে পারছেন। মাঠে নামলে পুরো সময় মনোযোগ ধরে রেখে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
নিজেকে শুধু টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত হওয়ার বাধা ভেঙে বেরিয়ে আসার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। একসময় সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাকে ততটা মূল্যায়ন করা হতো না, তবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সেই ধারণা বদলেছেন বলে জানান।
শেষে রাহুল বলেন, খেলাধুলায় সবসময় সবকিছু পরিকল্পনামতো হয় না। তাই জয়-পরাজয়কে সমানভাবে গ্রহণ করে যাত্রাটা উপভোগ করাই গুরুত্বপূর্ণ। অর্জন না হওয়া বিষয় নিয়ে হতাশ হলে তিনি নিজের প্রাপ্তিগুলোর কথা মনে করেন। সামনে এখনও সময় আছে, তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং যত বেশি সম্ভব শিরোপা জয়ের লক্ষ্য রাখবেন।