
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ অবসানে একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের একটি সূত্র বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-এ প্রকাশিত সমঝোতা প্রস্তাবের প্রতিবেদনটি সঠিক। তারা আশা করছেন, খুব দ্রুতই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ১৪ দফার একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করতে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার লক্ষ্যে শুরু করা তিন দিনের নৌ-অভিযান স্থগিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইরানের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং দেশটিকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত অর্থ ফেরত দেবে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিতে উভয় পক্ষই সম্মত হবে।
এই সমঝোতা স্মারকটি নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা হচ্ছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। এর পরবর্তী ৩০ দিন উভয় পক্ষ একটি বিস্তারিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবে। ওই সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ইরানের অবরোধ এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। তবে আলোচনায় কোনো জটিলতা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ বা অবরোধ আরোপের ক্ষমতা হাতে রাখবে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' নামে যে মিশন শুরু করেছিলেন, তা স্থগিতের ঘোষণা দেন। এই মিশন চলাকালে ইরানের হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়ে গিয়েছিল। গত মঙ্গলবারও হরমুজ প্রণালীতে একটি ফরাসি মালবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয় এবং এতে বেশ কয়েকজন ক্রু আহত হন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আলোচনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় তিনি এই মিশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরের জন্য এই বিরতি প্রয়োজন। যদিও এর আগে ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১৪ দফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ইরানের সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনার আগে যুদ্ধ বন্ধ এবং শিপিং বা জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে। এখন উভয় পক্ষই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী। রয়টার্স