বড় ধরনের আইনি ধাক্কার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের রায়ে বলা হয়, এই শুল্ক আরোপ ছিল বেআইনি। বার্তাসংস্থা সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ রায়ের কথা জানান হয়।
তিন বিচারকের বেঞ্চে ২-১ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া রায়ে বলা হয়, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা ব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপের যথেষ্ট আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন। আদালতের মতে, প্রশাসন যে যুক্তি দেখিয়েছিল, তা আইন অনুযায়ী “বড় ও গুরুতর বাণিজ্য ঘাটতি” প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়।
এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হওয়া ওই শুল্ককে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মামলার বাদী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই শুল্ক আদায় বন্ধ করতে হবে এবং আগে আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে। যদিও এই সিদ্ধান্ত আপাতত শুধু সংশ্লিষ্ট বাদীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তবুও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১২২ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারেন। তবে আদালত বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই ধারা প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের বিস্তৃত শুল্কনীতির বড় অংশকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। এরপরই প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন ব্যবহার করে নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের পথে যায়।
তবে বৃহস্পতিবারের রায়ের পরও জুলাই পর্যন্ত অন্যান্য আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে এই শুল্ক কার্যকর থাকতে পারে। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে মূলত শিল্পভিত্তিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতাই কার্যকর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন কিছু দেশভিত্তিক শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে প্রশাসন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'আদালত নিয়ে কিছুই আমাকে অবাক করে না। আমরা একটি রায় পাই, তারপর অন্যভাবে এগোই।' তিনি আরও জানান, প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক আইনি চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।