
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভাণ্ডারে মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার ডিগ্রি যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানে এনআইডির নিবন্ধন ফরমে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে সীমিত কিছু অপশন থাকায় অনেক নাগরিকের প্রকৃত একাডেমিক পরিচয় প্রতিফলিত হয় না বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ কারণে নিবন্ধন ফরমে নতুন করে বিস্তারিত শিক্ষাগত তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এতদিন এনআইডি ফরমে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক বা সমমানের তথ্যই মূলত অন্তর্ভুক্ত ছিল। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল কিংবা কারিগরি ও অন্যান্য বিশেষায়িত শিক্ষার আলাদা পরিচয় উল্লেখের সুযোগ ছিল না। ফলে এসব ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই ‘সমমান’ শব্দ ব্যবহার করা হতো।
কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পরিকল্পনার আওতায় মাদরাসা, কারিগরি, পেশাভিত্তিক ও বিশেষায়িত শিক্ষার তথ্য আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা অন্যান্য পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও কেবল সরকারি চাকরি বা সাধারণ পেশা উল্লেখ না করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয় যুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তাদের মতে, এনআইডিকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও আধুনিক ডাটাবেজে রূপান্তরের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি সেবা, চাকরি যাচাই, শিক্ষা-সনদ মিলিয়ে দেখা কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় নাগরিক পরিচয় নিশ্চিত করতে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য এনআইডির নিবন্ধন ফরম ও সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।