
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নৌ ও সড়কপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এবার সদরঘাট এলাকায় স্পিডবোট বা ছোট নৌযান থেকে সরাসরি লঞ্চে ওঠা বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে ফেরিতে ওঠার আগে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে ঈদযাত্রা নিয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, গত ঈদে দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে সদরঘাটে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো বোট বা স্পিডবোট থেকে সরাসরি লঞ্চে ওঠা যাবে না। যাত্রীরা পল্টুনে নেমে নির্ধারিত ব্রিজ ব্যবহার করে লঞ্চে উঠবেন। নৌ-পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে।
ফেরি পারাপার নিয়েও কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সব যাত্রীকে নামিয়ে বাস ফেরিতে উঠবে। এ জন্য ব্যারিকেড বসানো হবে। খালি না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাস ফেরিতে প্রবেশ করতে পারবে না। যদিও অসুস্থ যাত্রী, শিশু বা মালামালের কারণে বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
ঈদযাত্রায় এবার বৃষ্টির আশঙ্কাকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, বৃষ্টি হলে যানজট ও যাত্রীচাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পশুবাহী যানবাহনের কারণে সড়কে বাড়তি চাপ তৈরি হবে। খারাপ আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
মন্ত্রী জানান, যাত্রীচাপ কমাতে পোশাক কারখানাগুলোকে তিন থেকে চার ধাপে ছুটি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। মালিকপক্ষ এতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। তিনি বলেন, গতবার ধাপে ধাপে ছুটির পরিকল্পনা কার্যকর না হওয়ায় একদিনেই বিপুল মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। শুধু গাজীপুর এলাকাতেই ১০ থেকে ১৫ লাখ যাত্রীর চাপ তৈরি হয়।
হাইওয়েতে ব্যাটারিচালিত যান চলাচল, অনিয়ন্ত্রিত সংযোগ সড়ক এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় মহাসড়কে নিরাপত্তা বাড়াতে সংযোগ সড়কগুলোকে নিরাপদভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঈদের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবার ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তাই যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই বলেও জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।