
খুলনায় পশু পালনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ ও ডেইরি ফার্মের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। তাদের মধ্যে অনেকে বাণিজ্যিকভাবে গরু ও ছাগলের খামার গড়ে তুলছেন। তারা প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ভুসি, ঘাস ও গুড় ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করছেন। এরই মধ্যে কোরবানির পশু বিক্রিকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার ৪২ জন খামারি পশু লালন-পালন করেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরাই তরুণ উদ্যোক্তা। এবার কোরবানিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হতে পারে। বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯টি। সেখানে পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৯টি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেকারত্ব দূর, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক কারণে পশু পালনে তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। কোরবানির ঈদ বা সারা বছর ধরে মাংস ও দুধের চাহিদার কারণে গবাদিপশু পালন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ফলে গতানুগতিক চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণরা উদ্যোক্তা হয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর খুলনার পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার জানান, খুলনা জেলার রূপসা, তেরখাদা, ডুমুরিয়াসহ বিভাগের কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে পশুপালন ও খামার স্থাপনে তরুণ উদ্যোক্তারা সফল হচ্ছেন।
তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬টি, লালন-পালন (প্রাপ্যতা) করা হচ্ছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ২২৯টি, উদ্বৃত্ত ৮ হাজার ৭৭৩টি, বাগেরহাটে চাহিদা ৭৭ হাজার ৮৮৯টি, প্রাপ্যতা ৮৪ হাজার ৯৬৭টি, উদ্বৃত্ত ৭ হাজার ৭৮টি, সাতক্ষীরায় চাহিদা ১ লাখ ১ হাজার ৬৪০টি, প্রাপ্যতা ১ লাখ ২০ হাজার ২২টি, উদ্বৃত্ত ১৮ হাজার ৩৮২টি, যশোর জেলায় চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি, প্রাপ্যতা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি, উদ্বৃত্ত ১৪ হাজার ৮৪৯টি, ঝিনাইদহে চাহিদা ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪২০টি, প্রাপ্যতা ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭টি, উদ্বৃত্ত ৫৬ হাজার ৯৭৭টি, মাগুরায় চাহিদা ৬২ হাজার ৫০৮টি, প্রাপ্যতা ৭৬ হাজার ৯৭৪টি, উদ্বৃত্ত ১৪ হাজার ৪৬৬টি, নড়াইলে চাহিদা ৩৯ হাজার ৭৩৩টি, প্রাপ্যতা ৪৫ হাজার ৪৯৭টি, উদ্বৃত্ত ৫ হাজার ৭৬৪টি, কুষ্টিয়ায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ২৩ হাজার ২৬০টি, প্রাপ্যতা ২ লাখ ১০ হাজার ৯৩৮টি, উদ্বৃত্ত ৮৭ হাজার ৬৮৭টি, চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১টি, প্রাপ্যতা ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি, উদ্বৃত্ত ৭১ হাজার ৫৮টি এবং মেহেরপুর জেলায় চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি, প্রাপ্যতা ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি। এ জেলায় চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৮২ হাজার ৩৩৫টি।
খুলনার রূপসার সামন্তসেনা গ্রামে তরুণ উদ্যোক্তা খামারি আনোয়ার হাওলাদার জানান, লাভজনক ব্যবসা ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় তরুণরা পশু পালনে আকৃষ্ট হচ্ছেন। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা পশুপালনে উৎসাহিত হচ্ছেন। এ ছাড়া বিদেশফেরত ও শিক্ষিত যুবকরা খামার গড়ে সফল হচ্ছেন।
তিনি জানান, এবার কোরবানিকে সামনে রেখে তার খামারে মাঝারি আকারের ৬টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি গরু এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হবে। বাজার ভালো হলে সারা বছরের লাভ উঠে আসবে।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর খুলনার পরিচালক ডা. গোলাম হায়দার বলেন, বিভাগে এ বছর অনেক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। তারা আধুনিক নতুন খামারে গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ, উৎপাদন বা প্রাপ্যতা বেড়েছে। স্থানীয় পশু দিয়েই শতভাগ চাহিদা মেটানোর পর আরও উদ্বৃত্ত থাকবে। বাজারের দামও এবার স্থিতিশীল থাকবে।