
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার মশাখালী ইউনিয়নের দড়ি চারবাড়িয়া গ্রামের শাহাকান্দা ভিটা এলাকায় এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্থানীয় জনমনে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গাছের সঙ্গে পেছনে দুই হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মরদেহের বুকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের চিহ্ন এবং বিচ্ছিন্ন মাথা পায়ের কাছে পড়ে থাকার দৃশ্য যেন সভ্য সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে স্থানীয়রা নির্জন এলাকায় ভয়াবহ এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরনে শুধু একটি প্যান্ট ছিল, শরীরে অন্য কোনো পোশাক ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে অন্য কোথাও থেকে অপহরণ বা ধরে এনে পরিকল্পিতভাবে নির্জন স্থানে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাশের সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থেকে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিহত ব্যক্তি মোঃ কাওসার আলম (৪৪), পিতা মোঃ জামেদ আলী, মাতা লাইলী বেগম। তার বাড়ি বিরামপুর উপজেলায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতের পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এমন বর্বরতা শুধু একটি পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনা নয়, বরং সমাজে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, নৈতিক অবক্ষয় ও মানবিক মূল্যবোধের সংকটেরও নির্মম প্রতিফলন।
সচেতন মহলের মতে, সামাজিক অবক্ষয়, অপরাধপ্রবণতা, মাদক, ব্যক্তিগত বিরোধ ও আইনভীতির অভাবের কারণে সমাজে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। তারা মনে করছেন, পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি—“যাতে আর কোনো পরিবার এভাবে স্বজন হারানোর শোক না পায়, তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”