
ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে থাকা কয়েকটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সুরক্ষায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র সংযম বজায় রেখে নিজেদের বাহিনীকে রক্ষার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আশপাশের এলাকা। এটি ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্র বাহিনীর দাবি, সেখানে ইরানি নৌযানগুলো সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করছিল।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বন্দর আব্বাস এলাকায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ওই এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এছাড়া সিরিক ও জাস্ক এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং ইরানের জব্দ হওয়া অর্থ ছাড়ের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও দ্রুত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে অথবা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে তা ধ্বংস করতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। সূত্র: এনডিটিভি