
আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের আগে ব্রাজিল দলে নেইমারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে এক তুমুল বিতর্ক। দলটির কোচ কার্লো আনচেলত্তি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকাকে দলে ফিরিয়ে নিয়ে এক বড়সড় জুয়া খেলেছেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকা এবং সাম্প্রতিক ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্তকে অনেকে অভিজ্ঞ কোচের সাহসিকতা হিসেবেই দেখছেন।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি কাফু মনে করেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে নেইমার এখনও যে কোনো দলের জন্য অপরিহার্য হতে পারেন এবং তার উপস্থিতিতে ব্রাজিল দল বাড়তি প্রেরণা পাবে।
নেইমারের এই ফেরা কেবল খেলোয়াড় হিসেবে তার ফেরার গল্প নয় বরং এটি ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের এক মানসিক আবেশের প্রতিফলন। ২০১০ সালে কিশোর বয়সে বাদ পড়ার পর থেকে ২০১৪ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে ইনজুরি, এরপর ২০১৮ ও ২০২২ সালের আসরে বারবার চোটের কারণে ছন্দ হারানো; সব মিলিয়ে জাতীয় দলের সাথে নেইমারের সম্পর্ক যেন এক আবেগঘন ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।
আনচেলত্তি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, নেইমার পুরোপুরি ফিট নন এবং মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না। তা সত্ত্বেও, কোচ তাকে দলে নিয়েছেন মূলত অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রেখে এবং মাঠের বাইরের অতিরিক্ত চাপ কমানোর লক্ষ্য থেকে। আনচেলত্তির যুক্তি হলো, নেইমারকে দলে না রাখলে তাকে নিয়ে যে গুঞ্জন ও বিতর্ক চলতো, তা দলের অন্যদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করত। এখন তাকে দলে রেখে কোচ চেয়েছেন নেইমারের ওপরই দায়ভার ছেড়ে দিতে, যাতে তিনি ফিটনেস প্রমাণ করে নিজের সেরাটা দিতে পারেন।
ফুটবল ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অতীতেও রোমারিওকে নিয়ে ব্রাজিল দল এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে রোমারিওকে শেষ মুহূর্তে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ে নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
আনচেলত্তি হয়তো নেইমারের ক্ষেত্রেও সেই একই রকমের 'ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ' বা চমকের অপেক্ষায় আছেন। তবে কাফু ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রকাশ্যে সমর্থন দিলেও নেইমারের বর্তমান বয়স এবং তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আনচেলত্তির এই সাহসী সিদ্ধান্ত মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলের জন্য কাঙ্ক্ষিত সাফল্য বয়ে আনতে পারে কি না।
সূত্র: স্কাই স্পোর্টস