সাগরে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপ আরও ঘণীভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
ইতিমধ্যে ঢাকাসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। অতিভারী বৃষ্টির ফলে দেশের পাঁচ জেলায় ভূমি ধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়াও ভারি বৃষ্টির প্রভাবে দেশের নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার (২৮ মে) আবহাওয়ার এক বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা বলেছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি একই এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘণীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ (তিন) নম্বর পুনঃ ৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ খ. হাফিজুর রহমানের দেওয়া ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তায় বলা হয়, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতিভারী (৮৮ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, অতিভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও কক্সবাজার জেলাসমূহের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও ভারি বর্ষণ জনিত কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল ৯টার মধ্যে ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো, হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
এদিকে ভারি বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগের নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, শুক্র-শনিবার ফেনী জেলার মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া কিছু জায়গায় বিপদসীমা অতিক্রমও করতে পারে। এ সময় সিলেটের সারিগোয়াইন, সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, হবিগঞ্জের খোয়াই, নেত্রকোনা জেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বাড়বে। বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং কিছু জায়গায় বিপদসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা আছে।