• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম

সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী পেল থাইল্যান্ড

ইনসাফ বার্তা আন্তর্জাতিক : / ১৫৯ বার
আপডেট শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫

থাইল্যান্ডে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশটির সাংবিধানিক আদালত প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করার পর বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমথম ওয়েচায়াচাইকে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
থাই সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাজা মহা বজিরালংকর্নের কাছে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ শেষে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে ফুমথমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ৭১ বছর বয়সী ফুমথম এর আগে মাত্র একদিনের জন্য দায়িত্বে থাকা সুরিয়া জুনগ্রুংরুয়াংকিতের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
পেতংতার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গত জুনে কম্বোডিয়ার প্রভাবশালী সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে একটি ফোনালাপে মন্ত্রীসভার নৈতিকতা লঙ্ঘন করেছেন। ওই ফোনালাপে তিনি হুন সেনকে “আঙ্কেল” বলে সম্বোধন করেন এবং থাই সেনাবাহিনীর একজন কমান্ডারকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন, যা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

থাইল্যান্ডের ৩৬ জন সিনেটরের একটি প্যানেল এই ঘটনাকে সংবিধান লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে আদালতে একটি আবেদন জমা দেয়। আদালত প্রাথমিকভাবে মনে করছে, পেতংতার্ন মন্ত্রীসভার শিষ্টাচার ভেঙেছেন এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়ার আগেই পেতংতার্ন নতুন মন্ত্রিসভায় নিজেকে সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং বৃহস্পতিবার গ্র্যান্ড প্যালেসে শপথ গ্রহণ করেন।
তবে সরকারের ওপর জনআস্থা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। জুন মাসের শেষের দিককার একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, পেতংতার্নের জনপ্রিয়তা মার্চ মাসের ৩০.৯ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৯.২ শতাংশে।

থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিবার এখন দুই দিক থেকেই আইনি চাপে রয়েছে। পেতংতার্নের বাবা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে রাজদ্রোহ সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। থাকসিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং রাজপরিবারের প্রতি তার আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
চিকিৎসাজনিত কারণে কারাগারের বদলে হাসপাতালে ছয় মাস থাকার পর গত বছর ফেব্রুয়ারিতে জামিনে মুক্তি পান থাকসিন। তবে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট চলতি মাসে তার সেই ‘হাসপাতাল বন্দিত্ব’-এর বৈধতা পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে তাকে আবার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশও দিতে পারে আদালত।

থাইল্যান্ডের রাজনীতি তাই এখন আরও অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার মধ্যে প্রবেশ করছে—যেখানে সরকার, আদালত, রাজতন্ত্র এবং জনগণের চাহিদা এক জটিল সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: আল জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও

Archive Calendar

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031