জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। যেকোনো অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়ান সব সময়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন এই অভিনেত্রী। এরপরও বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন তিনি। এবার রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার প্রতিবাদ জানালেন এই অভিনেত্রী।
হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে ফুসলে ওঠেন দেশবাসী। প্রতিবাদ জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকা। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ১১ জুলাই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে লেখেন, ‘এটা এক ধরনের মর্মান্তিক ছবি। কারও হত্যা হতে দেখা, যেখানে বাকি সবাই দাঁড়িয়ে দেখছে। কিছুই করছে না। এটা কীভাবে সম্ভব? কী ধরনের দেশে আমরা বেঁচে আছি? মানুষ দাঁড়িয়ে দেখল। কিন্তু কেউ এগিয়ে গেল না। কতটা ভয়াবহ?’
বাঁধন আরও লেখেন, ‘আমি আর কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এটা কি আর কেউ অনুভব করছেন? মনে হচ্ছে না আমরা যেন নরকে বাস করছি? আর সরকার? সব সময়কার মতোই নিশ্চুপ। তারা কোথায়? কথা বলে না কেন? কিছু করে না কেন?’
দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাঁধন বলেন, ‘আমি কি এই দেশে নিরাপদ? আমি কি সত্যিই যা মনে করি তা বলতে পারি? না কি সত্যি কথা বলার অপরাধে আমিই হব পরবর্তী টার্গেট?’
গত বুধবার বিকেলে একদল লোক লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেই ঘটনার একটি ভিডিও গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না পেয়ে প্রকাশ্য এই হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর পেছনে বিএনপির যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী রয়েছেন। ইতোমধ্যে যুবদল অভিযুক্তদের বহিষ্কার করেছে।
পুলিশ প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। হত্যার ঘটনার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।