• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম

প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে বাধ্যতামূলক চুক্তির পথে ১৮০ দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ১৬২ বার
আপডেট শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫

বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ রোধে একটি বাধ্যতামূলক চুক্তি করার লক্ষ্যে প্রায় ১৮০টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ১০ দিনের আলোচনা শুরু হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে আয়োজিত আলোচনায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারার পর চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আবারও এই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণ এতটাই ব্যাপক যে এর মাইক্রোপার্টিকল বা অতি ক্ষুদ্র কণা পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, গভীরতম মহাসাগরের তলদেশ এমনকি, মানবদেহের প্রায় প্রতিটি অংশেও পাওয়া গেছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো ২০২৪ সালের মধ্যে একটি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে দক্ষিণ বুসানের আলোচনায় বড় ধরনের মতভেদের কারণে অগ্রগতি থেমে যায়। একপক্ষ একটি বৈশ্বিক বাধ্যতামূলক চুক্তির পক্ষে কথা বললেও অন্যপক্ষ, বিশেষ করে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো, প্লাস্টিক উৎপাদন সীমিত করার বিরোধিতা করে শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকেই জোর দিতে চেয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) মতে, এই সমস্যার যদি সমাধান না করা হয়, তাহলে ২০৬০ সালের মধ্যে প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ তিনগুণ হতে পারে। এদিকে, জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি জানিয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য মাটি ও পানিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বে বছরে প্রায় ৪৬ কোটি টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার অর্ধেকই একবার ব্যবহারযোগ্য। অথচ এসব প্লাস্টিক বর্জ্যের ১০ শতাংশেরও কম পুনর্ব্যবহার করা হয়।

এই প্লাস্টিক একসময় এতটাই ছোট কণায় ভেঙে যায় যে তা শুধু পরিবেশেই নয়, রক্ত ও মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও প্রবেশ করছে- যার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের ওপর কী হতে পারে, তা এখনো পুরোপুরি অজানা।

ইউএনইপি’র নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসেন বলেন, পরিস্থিতি জটিল হলেও আমরা আশা করছি, জেনেভার আলোচনায় একটি চুক্তির দিকে এগোনো সম্ভব।

বুসান বৈঠকের পর প্রকাশিত খসড়া নথিতে ৩০০টির মতো অস্পষ্ট বা মতবিরোধপূর্ণ বিষয় রয়ে গেছে। অর্থাৎ, এখনো ৩০০ বিষয়ে একমত হতে হবে বলে জানান আন্তর্জাতিক দূষণকারী পদার্থ নির্মূল নেটওয়ার্কের (আইপিইএন) নির্বাহী পরিচালক বিয়র্ন বিলার।

চুক্তিতে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো- নতুন প্লাস্টিক উৎপাদন সীমিত করা হবে কিনা। সৌদি আরব, ইরান ও রাশিয়ার মতো পেট্রোলিয়াম উৎপাদনকারী দেশগুলো এ ধরনের সীমাবদ্ধতার বিপক্ষে।

আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হলো- ক্ষতিকর রাসায়নিকের তালিকা তৈরি, বিশেষ করে পিএফএএস জাতীয় রাসায়নিক যেগুলো ‘ফরএভার কেমিক্যালস’ নামে পরিচিত। কারণ এগুলো সহজে ভেঙে পড়ে না।

বিয়র্ন বিলারের বলেন, আরেক দফা বৈঠকের প্রয়োজন হোক, কেউই তা চায় না। সব দেশের কূটনীতিকদের উচিত এখনই অগ্রগতি দেখানো।

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট কঠিন, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় উদ্যোগের প্রতি মনোভাব পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলো আলোচনায় আগ্রহী। কারণ তারা হয়তো নিজেরাই প্লাস্টিক উৎপাদক, অর্থনীতিতে চুক্তির প্রভাব পড়তে পারে, আবার কেউ কেউ দূষণের শিকার হয়ে এর প্রতিকার চাইছে।

গত জুনে ফ্রান্সের নিস শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনে ৯৬টি দেশ অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি দেশ, মেক্সিকো ও সেনেগালও একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী চুক্তির দাবি জানায়। তারা চায়, প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা আরোপ করা হোক।

ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জোট অ্যাওসিস’র চেয়ারপারসন ইলানা সিড বলেন, চুক্তিটি যেন শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে না হয়, বরং প্লাস্টিকের উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহারের পরের পর্যায় পর্যন্ত জুড়ে থাকতে হবে।

গ্রিনপিসের আলোচক দলের প্রধান গ্রাহাম ফোর্বস বলেন, সরকারগুলোর উচিত জনগণের স্বার্থে কাজ করা, দূষণকারী শিল্পগুলোর স্বার্থে নয়। তিনি আলোচনায় শিল্প খাতের লবিস্টদের উপস্থিতির সমালোচনাও করেন।

আইপিইএন’র নির্বাহী পরিচালক বিয়র্ন বিলার বলেন, আলোচকরা চান, আরেক রাউন্ডে না গিয়েই একটি কাঠামো চুক্তিতে পৌঁছাতে। কিন্তু কাঠামো থাকলেই তা কার্যকর হবে না, সেটির প্রকৃত প্রয়োগযোগ্যতা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন দিয়ে পূর্ণ করতে হবে। অন্যথায়, এই চুক্তি কেবল একটি ফাঁকা খোলস হয়েই থেকে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও

Archive Calendar

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031