• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম

ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) গুরুত্ব ও তাৎপর্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৩১০ বার
আপডেট শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীমুসলিম উম্মাহর নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। সর্বকালীন মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ-শেষনবী, শ্রেষ্ঠনবী হজরত মোহাম্মদ (স.) এর আগমন ও তিরোধানের এদিনটি সীমাহীন তাৎপর্যপূর্ণ।পূর্ণ একটি বছরের দীর্ঘ পরিক্রমা অতিক্রম করে মহান দিনটি আজ আমাদের সামনে উপস্থিত। ঈদ, মিলাদ আর নবী তিনটি শব্দ যোগে দিবসটির নামকরণ হয়েছে। তিনটি শব্দই আরবি ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে। ঈদ শব্দটির অর্থ আনন্দ বা খুশি, মিলাদ অর্থ জন্মদিন আর নবী শব্দটি ইসলামের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ পরিভাষাসমূহের অন্যতম যা বাংলাভাষাতেও নবী অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাহলে ঈদে মিলাদুন্নবীর অর্থ দাঁড়ায় নবীর জন্মদিনের উৎসব বা নবীর জন্মদিনের আনন্দ।

তাৎপর্য

আজ থেকে ১৪৪৬ বছর আগে বিশ্বমানবতা যখন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত, জীবন ও জগতের প্রত্যেকটি ক্ষেত্র যখন ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ঠিক তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিল মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.) এর। সামাজিক বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক শ্বৈরশাসন, অর্থনৈতিক দেউলিয়াপনা এককথায় সার্বিক অধঃপতন যে জাতিকে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম অভিধা ‘বর্বর’ আখ্যায় প্রসিদ্ধ করে তুলেছিল সেই তাদেরই মহানবী (স.) তাঁর আদর্শের সুষমা দিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম আদর্শ জাতিতে পরিণত করেছিলেন। যাদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহর এরশাদ করেছেন, আর যারা সর্ব প্রথম হিজরতকারী এবং আনসারদের মধ্যে যারা অগ্রগণ্য আর যারা তাদের আন্তরিকভাবে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সেসব লোকের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন এমন জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত। তারা চিরকাল সেখানে বসবাস করবে আর এটাই মহা সাফল্য।(সূরা আত্-তাওবা : ১০০) বস্তুত বর্বর আরবরা আদর্শিক অবক্ষয়ের পথ ধরে মানবিকগুণাবলি হারিয়ে মনুষ্য পরিচিতির ন্যূনতম যোগ্যতাটুকুও খু্ঁইয়ে বসেছিল। সেই বর্বর মানুষগুলোই আবার যখন হজরত মোহাম্মদ (স.) এর সংস্পর্শে এসে নিজেদের চরিত্রকে আদর্শিক মানদণ্ডে উন্নীত করেছে সামান্য সময়ের ব্যবধানে তারাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। মানব জীবন ও সমাজের এই যে অভাবনীয় ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এটা সম্ভব হয়েছিল কেবল হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর মহোত্তম আদর্শের অনুশীলনের ফলে। মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, হে কিতাবধারীগণ! তোমাদের নিকট আমার রাসুল আগমন করেছেন! কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে, তিনি তার অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয়ে মার্জনা করেন।বস্তুত তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জ্বল গ্রন্থ। এর দ্বারা আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের শান্তির পথ প্রদর্শন করেন এবং তাদের স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনয়ন করেন এবং তাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করেন।(সূরা আল-মায়িদাহ : ১৫-১৬) ঈদে মিলাদুন্নবী এলে মহানবী (স.)-এর জীবনাদর্শ ভিত্তিক আলোচনা, সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে পালিত হয়। তাই সম্পূর্ণ দ্বিধাহীন চিত্তে, উচ্চকণ্ঠে বলতেই হয়, নবীর জন্মদিনটি দেড় হাজার বছরের পুরোনো হলেও ঈদে মিলাদুন্নবী সীমাহীন তাৎপর্যপূর্ণ।

গুরুত্ব

আজ আমাদের জীবন হয়ে উঠেছে চরম অশান্ত। অশান্তির দাবানল জ্বলছে সমাজের প্রতিটি স্তরে। মানবকলি শিশুরা আজ প্রতিপালনের ধারায় পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধিকার বঞ্চিত। মানব সভ্যতার মূল ভরসা যুব সমাজ আজ দিশেহারা। সমাজ প্রবাহের উৎস বয়োবৃদ্ধরা চরম হতাশায় স্থবির।পরিবার-সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-কর্মস্থল, রাজপথ-বসতবাড়ি, মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডা কোথাও যেন জীবনের স্বস্তি নেই, নেই নিরাপত্তা। প্রতারণা-ধোকাবাজি, প্রতিহিংসা-নিষ্ঠুরতা, মানব চরিত্রের অংশে পরিণত হয়েছে। ঘুষ-দুর্নীতি সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। জুলুমবাজি-দখলদারি কৌলিন্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মিথ্যা সত্যের স্থান দখল করে নিয়েছে। সমাজ সেবার নামে অসহায় জনগোষ্ঠীকে শোষণ করা হচ্ছে। ধর্মের নামে জীবন ও সম্পদের বিনাশকে পুণ্যময় বলে প্রচার করা হচ্ছে।

আমাদের জীবনের বিরাজমান প্রেক্ষাপটে ঈদে মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবীর জীবন চরিতকে আলোচনার ধারায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। রাজপথের মিছিল আর স্লোগানে নবী প্রেমের কারিশমা প্রদর্শন করেও কোনো ফল পাওয়া যাবে না। নবীর আদর্শকে চলমান জীবনের বাস্তবতায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। কেবল তাহলেই জীবন ও সমাজের সব অসঙ্গতি দূরীভূত হয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। চারিত্রিক বৈকল্য মিটে গিয়ে আদর্শিক উত্তরণের পথ ধরে মানবিক গুণের ধারক আদম সন্তান ফিরে আসবে এই সমাজে। জীবনটা ভরে উঠবে শান্তির অমিয় ধারায়। মহান আল্লাহ যেমনটি এরশাদ করেছেন, বলুন, (হে নবী) যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাক, তাহলে আমাকে অনুসরণ করো। তবে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন, তোমাদের পাপরাশি মার্জনা করে দেবেন। আল্লাহ হলেন পরম ক্ষমাশীল-অসীম দয়ালু।(সুরা আল-ইমরান : ৩১)


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও

Archive Calendar

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930