• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম

২৩৬৪টি ফ্ল্যাট পাবেন জুলাইযোদ্ধারা

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৬১ বার
আপডেট বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-২০২৪-এ কর্মক্ষমতা হারানো বীরদের প্রতি সম্মান জানিয়ে যুদ্ধাহত পরিবারকে দেওয়া হবে ১ হাজার ৫৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট। মিরপুর হাউজিং এস্টেটে মিরপুর ডিওএইচএস-সংলগ্ন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ভূমিতে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে মিরপুর-১৪তে নিহতদের পরিবার অর্থাৎ শহিদ পরিবারের জন্য ‘৩৬ জুলাই’ নামে আরেকটি পৃথক প্রকল্প নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এবারে মোট ২ হাজার ৩৬৪টি ফ্ল্যাট পাবেন জুলাইযোদ্ধা ও তাদের পরিবাররা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব জানা গেছে।

জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে দুই প্রকল্পের জন্য আলাদা দুটি প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

১ হাজার ৫৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মোট চার বছরে বাস্তবায়ন করবে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের পরিবারের জন্য স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণের জন্য মিরপুর হাউজিং এস্টেটে মিরপুর ডিওএইচএস-সংলগ্ন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ভূমিতে ১৫টি ভবনে ১ হাজার ৫৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রস্তাব করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুটের। ভবনগুলোর বেজমেন্টে ও নিচতলায় কার পার্কিং এবং ওপরের ১৩টি তলার প্রতিটি ফ্লোরে ৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। সরকার আহতদের পুনর্বাসনের জন্য বিনামূল্যে ফ্ল্যাট দিয়ে একটি স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে গত ১ ডিসেম্বর ‘ঢাকার মিরপুর ৯ নম্বর সেকশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-২০২৪-এ কর্মক্ষমতা হারানো জুলাইযোদ্ধা পরিবারের স্থায়ী বাসস্থান প্রদানের নিমিত্তে ১ হাজার ৫৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৫টি আবাসিক ভবনের প্রতিটিতে বেজমেন্টসহ ১৪ তলা থাকবে এবং প্রতিটি তলায় আটটি করে ফ্ল্যাট থাকবে। ১৩.৭৫ একর জমিতে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। মূলত, যারা ২০২৪ সালের আন্দোলনে গুরুতরভাবে আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, যারা দুই চোখ, একটি চোখ, দুই পা বা একটি পা হারানো, স্নায়ু বা মানসিক জটিলতায় অক্ষম হয়েছেন–তাদের জন্য নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দবিহীনভাবে অনুমোদিত প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৯ জুন পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে খরচ যাচাই করার জন্য গত ৭ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কিছু ক্ষেত্রে অসংগতি ধরা পড়লে সংশোধন করতে বলা হলে পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয় ২২ জুলাই। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ তার মতামতে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কর্মক্ষমতা হারানো বীরদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে সরকারি অর্থে বিনামূল্যে যুদ্ধাহত পরিবারকে মানসম্মত স্থায়ী বাসস্থান প্রদানের মাধ্যমে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে সহায়তা করা সম্ভব হবে। বিধায় প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য। তার এই সুপারিশের পরই একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলে সম্প্রতি সরকার তাতে অনুমোদন দেয়।
প্রকল্প এলাকায় থাকছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩১৫ বর্গমিটার আয়তনের ভবন নির্মাণ। এতে খরচ হবে ১ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এ ছাড়া থাকছে পর্যাপ্ত কার পার্কিং, উন্নতমানের লিফট, সাবস্টেশন, জেনারেটর, ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম, সিসি ক্যামেরা, ইন্টারকম, বজ্রনিরোধকব্যবস্থা, সোলার সিস্টেমসহ আধুনিক সব সুবিধা।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, বহু বছর ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিচ্ছিন্নভাবে শহিদ পরিবারকে সহায়তা দিয়ে এলেও সেটি একটি সমন্বিত কাঠামো গঠন করতে পারেনি। কোথাও পুনরাবৃত্তি, কোথাও আবার ঘাটতি দেখা দিত। ফলে শহিদ পরিবারের প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ থেকে শুরু করে ন্যায্য পুনর্বাসনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গড়ে ওঠেনি। এ কারণেই এবার প্রথমবারের মতো সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ, সমন্বিত আবাসনব্যবস্থা তৈরি করতে চায়, যা শুধু ফ্ল্যাট বরাদ্দ নয়, বরং মর্যাদা-নিরাপত্তা-জীবনমানের সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নীতি।

অন্যদিকে মিরপুর-১৪তে নিহতদের পরিবার অর্থাৎ শহিদদের পরিবারের জন্য ‘৩৬ জুলাই’ নামে আরেকটি পৃথক প্রকল্প নির্মাণের অনুমোদন দেয় সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। ১৮টি ভবনের মধ্যে ছয়টি ১৪ তলা ভবনে ৬০০টি এবং ১২টি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ১ হাজার ৩৫৫ বর্গফুট। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ভবন নির্মাণেই খরচ হবে ৬৬২ কোটি টাকা। জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ মেয়াদে কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সোলার সিস্টেম, লিফট, পার্কিং, সিসিটিভিসহ পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো। সামাজিক সুরক্ষা ও শহিদ পরিবারের পুনর্বাসনের নীতিগত গুরুত্ব বিবেচনায় ডিপিপির সম্ভাব্যতা যাচাইও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে।

পিইসি সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনযোগ্য বলে মত দেওয়া হলেও কয়েকটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রকৃত শহিদ পরিবার বা আহত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। পূর্বে সরকারি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়া থাকলে নতুন করে কোনো বরাদ্দ মিলবে না। বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাট বিক্রি, ভাড়া বা হস্তান্তর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং ভুয়া তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাতিল করার নিয়মও রাখা হয়েছে। এ ধরনের শর্ত না দিলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, শহিদ ও আহত পরিবারের প্রকৃত পুনর্বাসন-হুমকির মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্প দুটি গত জুলাইয়ে একনেকে উপস্থাপন করা হলেও তখন অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফেরত দেওয়া হয়। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, খরচের যৌক্তিকতা ও নকশা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় প্রকল্পটি ফেরত দেওয়া হয়। পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন নকশা, ব্যয় বিশ্লেষণসহ সংশোধিত প্রস্তাব আনে এবং তা যাচাইয়ের পর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, ‘শহিদ পরিবারের সহায়তা নিয়ে সরকারের বর্তমান উদ্যোগটি সমন্বিত কাঠামো গঠনের একটি সূচনা। শুধু ঢাকা নয়, বরং দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা শহিদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে একটি নতুন দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে, যার নেতৃত্ব দেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে আবার প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়। তাতে অনুমোদন দেয় সরকার।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও

Archive Calendar

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031