শুক্রবার (২২ মে) সকালে ‘এমটি ফসিল’ নামে জাহাজটি ১ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। এর আগে গত ৬ মে দুপুরে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামে জাহাজ ১ লাখ ৩৯৫ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে আসে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। বড় জাহাজ থেকে লাইটারেজের (ছোট জাহাজ) মাধ্যমে ক্রুড অয়েল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে ইস্টার্ন রিফাইনারি সচল থাকবে এবং জ্বালানি সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
জানা গেছে, ‘এমটি ফসিল’ নামে জাহাজটি গত ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ১ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল লোড করে। পানামার পতাকাবাহী ২৪৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪ দশমিক ৯ মিটার ড্রাফটের (গভীরতা) জাহাজটি ফুজাইরা থেকে সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তাই হরমুজ প্রণালীর জটিলতা পোহাতে হয়নি।
এর আগে গত ৬ মে চট্টগ্রামে আসা ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪ দশমিক ১ মিটার ড্রাফটের ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামে জাহাজটি সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে ইয়ানবু বন্দর থেকে গত ২১ এপ্রিল ভোর ৬টায় যাত্রা শুরু করে। বন্দরটি হরমুজ প্রণালীর বাইরে হওয়ায় এই জাহাজটিও তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হয়নি।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী চ্যানেলে পলি জমে নাব্যতা সংকট তীব্র হওয়ায় বন্দরের জেটিতে বড় ও গভীর ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে না। নিয়মিত ড্রেজিংয়ের অভাব ও প্রাকৃতিক কারণে চ্যানেলের গভীরতা কমে যাওয়ায় জোয়ারের সময় সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ মিটার গভীরতার জাহাজ প্রবেশ করতে পারে। আর ভাটার সময় ভিড়তে পারে ৬ থেকে ৭ মিটার গভীরতার জাহাজ। ‘এমটি ফসিল’ নামে জাহাজটি ২৪৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪ দশমিক ৯ মিটার গভীরতার। তাই বিশাল জাহাজটি মহেশখালী উপকূলে নোঙর করেছে। সেখান থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে ক্রুড অয়েল চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হবে।