আমাদের দেশের সম্পদ সীমিত হলেও সুষ্ঠু ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
তিনি বলেন, সম্পদ সুষ্ঠু ব্যবহার না করার একটি বড় কারণ দুর্নীতি অপরটি অপচয়। অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে হবে। উন্নয়নের আরেকটি বড় সমস্যা প্রকল্প ব্যয় বেশি। আমরা তিন মন্ত্রণালয়ের ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছি।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় তেল কোম্পানি পদ্মার ডেসপাস টার্মিনালে সুইচ টিপে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপ লাইনে জ্বালানি তেল পরিবহণ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন চালু হওয়ায় জ্বালানি পরিবহণ বাবদ ২০০ কোটির বেশি অর্থ সাশ্রয় হবে। তাছাড়া নৌ ও সড়ক পথের তুলনায় অনেক কম সময়ে ডিপোতে পৌঁছবে জ্বালানি তেল।
দেশের উন্নয়ন ব্যয় বেশি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আপনি যেকোনো ইনডিকেটর নেন, আমাদের সড়কে নির্মাণ ব্যয় সাউথ এশিয়ার তুলনায় অনেক বেশি হয়। আরও সমস্যা প্রকল্পে সময় বেশি লাগছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের সময় এবং ব্যয় বাড়ছে। কেননা সময় বাড়লে প্রকল্পে ব্যয় বাড়ে।
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আপনারা দেখেন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত এ পাইপলাইন প্রকল্পটিও ২০১৮ সালে নিয়ে ২০২০ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ করা যায়নি। করোনা, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ ফেনীতে বন্যার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটলে অবশ্যই ব্যয় বাড়বে। বিশ্বব্যাপী ইকুইপমেন্টের দাম বাড়ে।
জ্বালানি পরিবহনে সাশ্রয়ের দিক তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহণ করা হবে। রাষ্ট্রের এ প্রকল্প প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সম্পর্কিত। মডার্ন বিশ্বের ভিত্তি টেকনোলজিক্যাল প্রোগ্রেস। মনে রাখতে হবে আমাদের কিন্তু খুব একটা সম্পদ নেই। আমাদের কিছু প্রাকৃতিক গ্যাস ছিল সেটা এখন ফুরিয়ে আসছে। মানবসম্পদ ছাড়া আমাদের উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ আর নেই। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নতি দিয়ে আমাদের এগোতে হবে।
তিনি বলেন, আগে পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট আমদানি খাতে চার-পাঁচ জন বিড (টেন্ডারে অংশ নেয়া) করতে পারতো। আমরা এটা পরিবর্তন করেছি। ফলে এখন ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান বিড করে। আমরা বছরে ১৪শ-১৫শ কোটি টাকা সেভ করতে সক্ষম হয়েছি। এভাবে আমি যে তিনটি মন্ত্রণালয় দেখি, সেখানে আমরা ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুরূহ প্রকল্পটি সমাপ্ত করেছে। আমি আশা করবো, সামনের প্রকল্পগুলোতে তারা প্রকল্প ব্যয় সাশ্রয়ী হবে এবং দ্রুততম সময়ে করবে। দ্রুত করলেই কিন্তু ব্যয় সাশ্রয়ী হবে। যেমন বলা হয়, কান টানলে মাথা আসে। এ প্রকল্পেরও তিনবার রিভিশন হয়েছে। এমন এমন প্রকল্প আছে ১৭ বছর, ১৮ বছর হয়ে গেছে। এখনও প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। এ ধরনের প্রকল্প আর টেনে নেওয়া সম্ভব না। আমাদের যেকোনও প্রকল্পে নিজস্ব ভ্যালু অ্যাডিশন খুব কম। সামনের দিনে নিজস্ব ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়াতে না পারলে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবো। দেখুন আমাদের কত ইঞ্জিনিয়ার বেকার। নয়তো এমন কাজ করছে যেটা ইঞ্জিনিয়ারের কাজ নয়। এসব জিনিস নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। অন্য দেশের ঠিকাদারদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মু. হাসান-উজ-জামান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান। বক্তব্য রাখেন বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান।