• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন

ঈদের চতুর্থ দিনেও পর্যটকে মুখর জাফলং, বিছানাকান্দি ও রাতারগুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৪১ Time View
Update : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে চতুর্থ দিনেও সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলং, বিছানাকান্দি ও রাতারগুলে ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাহাড়, ঝর্ণা, নদী ও জলাবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নতুন রূপ ধারণ করায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন এসব পর্যটন গন্তব্যে।

আজ রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পর্যটকরা ভিড় করেন জাফলং, বিছানাকান্দি ও রাতারগুলে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের প্রথম দুই দিনের তুলনায় তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের আগমনে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, নৌকার মাঝি, ফটোগ্রাফার, ট্যুর গাইড এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

এদিকে পর্যটকদের এই ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যেই গতকাল শনিবার জাফলং পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি পর্যটকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পর্যটন খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, জাফলংয়ে আগত পর্যটকদের বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পর্যটকদের ছোটখাটো সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, সীমান্তবর্তী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘদিনের মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার করা হবে।

স্থানীয় শ্রমজীবী ও পাথরশ্রমিকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, জাফলংসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নদী খননের মাধ্যমে নিরাপদ নৌভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সেবার মান বৃদ্ধি করা হবে। পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে জাফলংকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এবার পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণা, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জল, বিছানাকান্দির পাথরময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড়ি ঝর্ণা এবং রাতারগুলের মনোমুগ্ধকর জলাবন। এসব স্থানে ভিড় করে প্রকৃতির অপরূপ রূপ উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।

খুলনা থেকে আসা পর্যটক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। জাফলং ও বিছানাকান্দির সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধকর। তবে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।

তবে বিপুল পর্যটক সমাগমের কারণে কিছু এলাকায় যানজট, পরিচ্ছন্নতা সংকট, আবাসন সংকট এবং নৌযানে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, আনসার সদস্য ও রোভার স্কাউট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে এই বিপুল পর্যটক সমাগম স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবিকায় নতুন গতি সঞ্চারের পাশাপাশি সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাটের পর্যটন শিল্পেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031