দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন এই পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে পারে।
নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের শুধু মূল বেতনই বাড়বে না, বরং ভাতা ও অন্যান্য সব ধরনের আর্থিক সুবিধাতেও এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নতুন পে-স্কেলের খসড়া অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বর্তমান বাজার মূলস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী সুপারিশ করা হয়েছে। নবম জাতীয় পে-কমিশনের দেওয়া বিশেষ সুপারিশে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই বড় প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে ১ম গ্রেড থেকে শুরু করে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিদ্যমান সব বেতন কাঠামোতে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে এবং প্রতিটি গ্রেডের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
নতুন পে-স্কেলে কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে জানা গেছে, এখানে বর্তমানের ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এই নতুন প্রস্তাবে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি পাস হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ইতিহাস তৈরি হতে যাচ্ছে।
কোন গ্রেডে কত টাকা বাড়ছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত খসড়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১ম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রস্তাবিত বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। একইভাবে ১০ম গ্রেডের বর্তমান বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হবে ২৪ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা।
নতুন পে-স্কেলে শুধু মূল বেতনের পুনর্গঠনই নয়, বরং সরকারি চাকরিজীবীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু নতুন বিশেষ ভাতাও যুক্ত করার প্রস্তাব করা রয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক বেতন কাঠামো চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে সরকারের আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছেন দেশের লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।