• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন

ইরানের হামলায় তছনছ মার্কিন ঘাঁটি, উপগ্রহ চিত্রে ক্ষয়ক্ষতি লুকানোর চেষ্টা

সবার আগে আন্তর্জাতিক : / ২৪ Time View
Update : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি রিফুয়েলিং বিমান এবং রাডার ব্যবস্থার লাখ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে কমপক্ষে ২০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপগ্রহ চিত্র এবং ভিডিও বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে মার্কিন প্রশাসন এই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এতদিন গোপন রাখার চেষ্টা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি রিফুয়েলিং বিমান এবং রাডার ব্যবস্থার লাখ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে ইরান ও লেবাননে যে হামলা চালিয়েছিল, তারই জবাবে এই পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান।

হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল যে ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় শেষ। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন দেখাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, বরং তারা এই সংঘাতের উপগ্রহ চিত্র ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের ঘাঁটিতে থাকা অত্যন্ত মূল্যবান তিনটি থাড অ্যান্টি-ব্যালাস্টিক মিসাইল ব্যাটারি। বিশ্বজুড়ে আমেরিকার মাত্র আটটি এই ধরনের ব্যাটারি রয়েছে, যার প্রতিটির নির্মাণ খরচ প্রায় এক বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে আমেরিকার অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান এবং কুয়েতের ঘাঁটিতে জ্বালানি বাঙ্কার ও সেনা আবাসন ধ্বংস করা হয়েছে। একটি নজরদারি বিমান প্রতিস্থাপনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাত শ’ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।

পেন্টাগনের হিসাব মতে, এই সংঘাতের খরচ ইতোমধ্যে ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার বড় অংশই যাবে ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম মেরামতে। কমপক্ষে ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন এই হামলায় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমেরিকার এই বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে ইরান মূলত কম খরচের ড্রোন ও নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই সাফল্য পেয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যদি আবারো লড়াই শুরু হয়, তবে মার্কিন ঘাঁটিগুলো যে চরম ঝুঁকিতে পড়বে, সেই আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : বিবিসি

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031