• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

সারাদেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৪০ বার
আপডেট শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

সারাদেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ছয় জেলায় এই বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৫ জন, রংপুরে ২, ময়মনসিংহে ২, নেত্রকোনায় ১, হবিগঞ্জে ১ ও কিশোরগঞ্জে একজন রয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে এসব তথ্য জানা গেছে। নিচে তুলে ধরা হলো-

সুনামগঞ্জ: বজ্রপাতে জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও দিরাইয়ে এসব নিহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে নূর জামাল (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হবিবুর রহমান (২২), সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৫), তাহিরপুর উপজেলার গাজিপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবুল কালাম (৩২) ও দিরাই উপজেলার পেরুয়া হাসনবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮)।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের কাছের পাগনার হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়েছিলেন চাঁনপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে নূর জামাল (২৬), মৃত রমজান আলীর ছেলে জালাল উদ্দীন (৫০), জালাল উদ্দীনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (২২)। দুপুর হটাৎ করে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রপাতে নুর জামাল ও তোফাজ্জল হোসেন আহত হন।

স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। তোফাজ্জল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে, একই সময়ে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরে চকিয়াচানপুর গ্রামের কাছে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের সময় এই ঘটনা ঘটে। নিহত হবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা ফজলু রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, হবিবুর রহমান তার চাচার সঙ্গে টগার হাওর সংলগ্ন জমিতে বোরো ধান কাটতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত হলে বজ্রঘাতে ঘটনাস্থলেই হবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হবিবুর রহমানকে স্থানীয়রা দ্রুত ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার জন্য রওনা দেন। তবে পথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের কাছে বজ্রপাতে ওই গ্রামের জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ (১৫) এবং লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫) গুরুত্বর আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রহমত উল্লাহকে মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং জয়নাল হক ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অপরদিকে, তাহিরপুরে বজ্রপাতে আবুল কালাম (৩২) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে হালকা বৃষ্টি ও দমকা বাতাসের মধ্যে বজ্রপাত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, আবুল কালাম ও নুর মোহাম্মদ মাটিয়ান হাওরে হাঁসের খামার দেখাশোনা করতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবারও তারা হাওরে হাঁস চরাতে গেলে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই আবুল কালামের মৃত্যু হয় এবং নুর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে। গুরুতর আহত নুর মোহাম্মদকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফয়েজ আহমদ নুরী জানান, নুর মোহাম্মদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার দুপুরে কালীয়াগোটা হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটাছিলেন দিরাই উপজেলার পেরুয়া হাসনবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮)। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রংপুর: জেলার মিঠাপুকুরে পুকুরে মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার বড়হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন উপজেলার রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মাঝিপাড়ার গ্রামের মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখীপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সখীপুর গ্রামের একটি মৎস্য খামারে জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছিল। এসময় জেলেরা সেখানে মাছ ধরতে নামেন এবং কয়েকজন স্থানীয় খামারের পাড়ে দাঁড়িয়ে মাছ ধরা দেখছিলেন। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয় এবং একটি শক্তিশালী বজ্রপিণ্ড খামারের পাড়ে পড়ে। বজ্রপাতের তীব্রতায় উপস্থিত সবাই দিগিবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ ও আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় গ্রামবাসী নিজেরাই আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মিলন মিয়া ও আবু তালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এম এ হালিম লাভলু জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বজ্রপাতে নিহতের ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ময়মনসিংহ: জেলার পৃথক দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। জেলার গৌরীপুর উপজেলায় ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়।

নিহত রহমত আলী উজ্জ্বল (৪০) উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পূর্ব কোনাপাড়া গ্রামের ওলিউল্লাহর ছেলে। শনিবার বেলা আনুমানিক ২টার দিকে কোনাপাড়া ও বায়রাউড়া গ্রামের মধ্যবর্তী ভালকি বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের পর উজ্জ্বল নিজ ধানক্ষেত পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। ভালকি বিল এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস আল মামুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার উস্থি গ্রামের মমতাজ আলী নামে এক বৃদ্ধ আকাশে মেঘ দেখে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

নেত্রকোনা: হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক আলতু মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ধলার হাওরে এ ঘটনা ঘটে। আলতু মিয়া আটপাড়া উপজেলার সুখারি ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনূর রহমান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আলতু মিয়ার দাফনে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জ: জেলার করিমগঞ্জে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হলুদ মিয়া নামে কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার বড় হাওরে এ ঘটনা ঘটে। হলুদ মিয়া উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কলাবাগ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে মুসলিমা জানান, হাওরে ধান কাটছিলেন হলুদ মিয়া। দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে আনেন।

হবিগঞ্জ: জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বড় ভাকৈর ইউনিয়নের মুমিনা হাওরে বিবিয়ানা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুনাম উদ্দিন (৪৫) রামপুর গ্রামের আলী পীর সাহেবের ছেলে। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার এসআই দুলাল মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এদিকে তাকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন জানান, বজ্রপাতে হতাহতদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি চেষ্টা করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও

Archive Calendar

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930