• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন

কোরবানির পশু জবাইয়ের আগে-পরে ‘জু‌নো‌টিক রো‌গ’-এর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৩৫ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। পছন্দের পশু কেনার জন্য হাটে ভিড় করছেন ক্রেতারা। প্রিয় পশুটি বেছে নেওয়ার পর নানা প্রস্তুতি নিয়ে সেটিকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে কোরবানির পশুর সঠিক ব্যবস্থাপনা না হলে জুনোটিক অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রামক রোগ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অসচেতনতা এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বিভিন্ন জীবাণু সহজেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

কোরবানীর জন্য প্রথ‌মে সুস্থ ও রোগমুক্ত পশু নির্বাচন করতে হবে। পশুর শরীরে ঘা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, জ্বর, কাশি, নাক বা মুখ দিয়ে অস্বাভাবিক তরল নির্গমন ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে সেই পশু কোরবানির জন্য গ্রহণ করা উচিত নয়। এরপর হাট থেকে বা‌ড়ি‌তে পশু এনে প্রথমেই তাকে ভালোভাবে গোসল করাতে হবে, যাতে সংক্রামকের ঝুঁকি ক‌মে । এ ছাড়া পশুকে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার (যেমন ভাত বা চাল) খাওয়ানো যাবে না। এতে প্রাণীর মারাত্মক অ্যাসিডোসিস হয়ে মৃত্যুঝুঁকি থাকে। এই জন‌্য পশুকে পরিমাণমতো কাঁচা ঘাস, পর্যাপ্ত পানি ও আরামদায়ক বিশ্রামের জায়গা দিতে হবে। পাশাপাশি পশুকে সুস্থ ও সবল রাখতে দৈহিক ওজনের প্রায় ১ শতাংশ পরিমাণ দানাদার খাদ্য দেওয়া উচিত।

জবাইয়ের সময়ে যাতে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট না হয়, সেজন্য জীবাণুমক্ত ধারালো ছুরি ব্যবহার করা জরুরি। প্রাণী সম্পূর্ণ নিস্তেজ হওয়ার পরই চামড়া ছাড়াতে হবে। জবাইয়ের আগে পর্যাপ্ত পানি পান করালে চামড়া ছাড়াতে সুবিধা হয়। এ ছাড়া সুস্বাদু মাংস পেতে হলে প্রাণীর রক্ত পুরোপুরি বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে।

জবাইয়ের পর বর্জ্য অবশ্যই গভীর গর্তে পুঁতে ফেলতে হবে এবং গর্তের ওপর চুন ও ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে হবে। তা না হলে অ্যানথ্রাক্স, ব্রুসেলোসিস, সাল‌মো‌নে‌লো‌সিস ও টিউবারকুলোসিসসহ নানা জুনোটিক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া মাংস কাটার সময় মাস্ক ও হাতমোজা ব্যবহার কর‌তে হ‌বে। যা‌তে জু‌নো‌টিক জীবাণুর স্পোর শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। দেহে কোনো ক্ষত থাকলে সেটি যাতে সংক্রমিত পশুর রক্ত বা মাংসের সংস্পর্শে না আসে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। সর্বশেষ মাংস কাটার পর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কারভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া পশুর মাংসে ক্ষ‌তিকর পরজীবী ও ব‌্যাক‌টে‌রিয়া থাকতে পারে, তাই মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

মাংস কাটা শে‌ষে জবাই‌য়ের স্থান ও সংঞ্জাম জীবাণু মুক্ত কর‌তে হ‌বে। পশুর উচ্ছিষ্ট অংশ যা‌তে কুকুর বা বন্যপ্রাণী খে‌তে না পা‌রে- সে‌দিকও নজর দি‌তে হ‌বে।

লেখক: অধ্যাক, ভে‌টে‌রিনা‌রি অনুষদ, মে‌ডি‌সিন বিভাগ, বাংলা‌দেশ কৃ‌ষি বিশ্ব‌বিদ্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031