• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের খালেদা জিয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার নিলেন জাইমা রহমান শূন্যপদ পূরণে ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে যা বললেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের সমৃদ্ধি সম্ভব নয় : স্পিকার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু শুক্রবার মত-পথের পার্থক্য থাকতে পারে, তর্ক-বিতর্ক যেন শত্রুতায় রূপ না নেয় স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ইরানে চার ইসরায়েলি ‘গুপ্তচর’ গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন আজ ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ৭০০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: শিক্ষামন্ত্রী

প্রাণি সুরক্ষায় কার্যকর আইন বাস্তবায়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ১৬ বার
আপডেট বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে প্রাণি নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনটির কিছু সীমাবদ্ধতা দূর করে সংশোধন আনার দাবি তুলেছেন প্রাণিকল্যাণ সংগঠন, পরিবেশবিদ, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা।

প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯-এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বর্তমান তফসিল ও কিছু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে আইনটি প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে প্রাণি নির্যাতনের ঘটনা কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে এবং অনেক ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক বা প্রাণিকল্যাণ সংস্থার সরাসরি মামলা দায়েরের সুযোগ না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়।

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন দীপান্বিতা রিধি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে এ আইনের আওতায় সফল বিচারের সংখ্যা তুলনামূলক কম। কিছু ক্ষেত্রে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া এগোয় না। তার মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বাস্তবায়ন করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আইনটির ১৮ ও ১৯ ধারা সংশোধন করে যে কোনো নাগরিক বা সংস্থাকে মামলা দায়েরের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম আরও সহজ হতে পারে।

এছাড়া ২০ ধারার কার্যকারিতা বাড়াতে মোবাইল কোর্টকে তফসিলভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

নতুন কিছু দণ্ডবিধি সংযোজনের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাণিকে খাদ্য সরবরাহে বাধা দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় অঙ্গচ্ছেদ, প্রাণিকে দিয়ে লড়াই বা জুয়ার আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়কে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

এছাড়া বেওয়ারিশ প্রাণিদের খাবার দেওয়া নিয়ে বাধা সৃষ্টি, পোষা প্রাণি পালনে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ প্রজনন ও অমানবিক পরিবেশে প্রাণি রাখার বিষয়েও আইনগত দিক বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

প্রাণিকল্যাণ কার্যক্রম জোরদার করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের অধীনে পৃথক শাখা গঠন, টিকাদান ও বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি চালু এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর তদারকি বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, অধিকাংশ অপরাধ জামিনযোগ্য হওয়ায় এবং পুলিশের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় আইনটি কার্যকরভাবে প্রয়োগে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছাড়া মামলা দায়ের করা না যাওয়াও বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হলে প্রাণিকল্যাণ আইন আরও কার্যকর হতে পারে এবং প্রাণি সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও

Archive Calendar

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930