মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশকের অচলাবস্থা ভেঙে আজ সরাসরি আলোচনায় বসছেন ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৩৪ বছর পর দুই দেশের মধ্যে এই প্রথম সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হতে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবারই এই ঐতিহাসিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থার মধ্যে নতুন এক কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কথা হতে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। তবে এই আলোচনা ঠিক কোন মাধ্যমে বা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই ওয়াশিংটন ডিসিতে দীর্ঘ ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেন ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা। দুই দেশের মধ্যে এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর আগে ১৯৯১ সালে মাদ্রিদ সম্মেলনে একটি শান্তিকাঠামোর আওতায় দুই দেশের নেতারা সর্বশেষ একই টেবিলে বসেছিলেন। সেই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ওয়াশিংটনে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো শান্তিচুক্তি ছাড়াই তা থমকে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ দুটির মধ্যে কোনো সরাসরি সংলাপ হয়নি।
মূলত লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী প্রভাব এবং দেশটির ১৯৫৫ সালের কঠোর আইন—যা ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে—সরাসরি আলোচনার পথ বন্ধ করে রেখেছিল।
এতদিন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে যেকোনো আলোচনা বা বিরোধ মীমাংসার কাজ চলেছে মূলত পরোক্ষভাবে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশন (ইউনিফিল) অথবা মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা দূত হিসেবে কাজ করতেন। ফলে ট্রাম্পের এই ঘোষণা এবং দুই নেতার সরাসরি কথা বলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই আলোচনা কীভাবে এগোবে এবং লেবাননের দীর্ঘদিনের আইনি বিধিনিষেধ কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে এখনো গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন