শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ৭ হাজার কোটি টাকা আওয়ামী লীগ সরকার আমলে আত্মসাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট নগরীর মেন্দিবাগে জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিল সিলেট শিক্ষা বোর্ড।
সভায় সিলেট অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আলোচনায় স্থান পায়।
এসব বিষয়ে অবহিত আছেন জানিয়ে বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা অবসর ভাতার দাবি, কল্যাণ ট্রাস্টের দাবি করবেন, সেটি আমি জানি। বিগত সরকারের ২০২২ সালের পর অবসর ভাতা, কল্যাণ ট্রাস্ট ভাতা আপনাদের দেয় না। ২০২৩ গেল, ২০২৪ গেল, ২০২৫ গেল– আপনারা এক টাকাও পাননি। কারণ ৭ হাজার কোটি টাকা বিগত সরকারের সময় যারা এই দায়িত্বে ছিলেন তারা আত্মসাৎ করেছেন।
এসব বিষয়ে আগামী বাজেট পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমাকে এই বাজেট পর্যন্ত বসে থাকতে হবে। থোক বরাদ্দ পেতে হবে, তারপর দিতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে শিক্ষকদের এগোতে হবে। অনেক শিক্ষক ইতোমধ্যে টাকার অভাবে, চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।
শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল, মেডিকেল অ্যালাউন্স, হাউস রেন্টের কথাও সরকার ভাবছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলনামূলক বেশি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিন্তু সেই আর্থিক শক্তি শিক্ষার মানোন্নয়নে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে একই অঞ্চলের ভেতরেই সুযোগের অসম বণ্টন দেখা যাচ্ছে।
দেশে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুসংগঠিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একাধিক ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তা কোনোভাবেই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না। বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিবিধানের বাইরে থাকবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে এবং একটি কার্যকর রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
কোচিং সেন্টারকে আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা ফেইলিওর হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে যায়। শিক্ষকরা ভালো করে পড়ান না বলেই নকল করে। আগের দিনে জেলার স্কুলগুলো ছিল নাম্বার ওয়ান। কারণ ডিসি-এসপিদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করত।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর করার বিষয়টি উপস্থাপন হয়। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ জায়গা দিলে ওনার নামে স্কুল করে দেব। বিল্ডিং আমরা করব।