ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের আবেদনের শুনানি শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন, তবে প্রথম দিনেই নির্বাচন ভবনে ধাক্কাধাক্কি-হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে কী ঘটেছিল- এ নিয়ে আলাদা আলাদা অভিযোগ ও ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং এনসিপির নেতা আতাউল্লাহ।
রবিবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ দাবি করেন, সীমানা পরিবর্তনের কারণে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিজয়নগরের মানুষ প্রতিদিনই আন্দোলন করছে, তবে বারবার তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এ নিয়ে যাতে ইসির শুনানিতে অংশ না নেন।
তিনি বলেন, ‘রুমিন ফারহানা এবং তারা গুন্ডাপান্ডারা বিভিন্ন সময় আমাকে ফোনে এবং বিভিন্ন লোক দিয়ে বলছে এখান থেকে সরে যেতে। আজকেও এখানে যখন আসি আমাকে পিছন থেকে টেনে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। একপর্যায়ে প্রবেশ করি। আমি যখন শুনানিতে দাঁড়াই, রুমিন ফারহানা আমাকে প্রথমে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমাকে কথা বলতে দেয় নাই। তার যে গুন্ডাপান্ডা ছিল তারা আমাকে পায়ের নিচে ফেলে পিষ্ট করে, নির্মমভাবে মারধর করে।’
এনসিপির নেতার অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মুশকিলের বিষয় হচ্ছে তিনি (আতাউল্লাহ) পরিচিত মুখ নন। তিনি এনসিপি থেকে এসেছেন, না জামায়াত থেকে এসেছেন, আমি জানি না। তবে উনি (আতাউল্লাহ) প্রথম, পাঞ্জাবি পরা একজন আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন। তারপর আমার লোকজন তো বসে থাকবে না। আমি তো একজন মহিলা। পরে যখন আমার লোকজনকে মারধর করেছে, আমার লোকজনও জবাব দিয়েছে। সিম্পল।’
রুমিন ফারহানা এই ঘটনার জন্য উল্টো তার নিজের দলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করে বলেন, ‘যেটা ১৫ বছরে হয় নাই সেটা আজকে হয়েছে। অলমোস্ট আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য গত ১৫ বছর লড়াই করলাম তারা আমাকে এখন ধাক্কা দেয়। তো ঠিক আছে ধাক্কার বদলে তো ধাক্কা আসবে, তাই না? সেটাই হয়েছে।’
নির্বাচনের আগে একটা সীমানা নিয়ে যদি এ রকম আচরণ ‘নিজ দলের মধ্যে’ হয় তাহলে নির্বাচনে কী হবে এমন সংশয় প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা।
শুনানি থেকে বেরিয়ে বেলা ২টার দিকে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এখানে একটি মারামারি হয়েছে। আমি যেহেতু একজন আইনজীবী, আমি মনে করেছি- আমার কেইস আমি নিজেই প্রেজেন্ট করব। সো আমার কেইস আমি প্রেজেন্ট করেছি…
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এর যিনি প্রার্থী, তিনি তার সদলবলে ২০/২৫ জন মিলে গুন্ডা-পান্ডার মতন, তাদের সেখানে আচার আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক, অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমি মনে করি এটা কমিশনের যে সম্পত্তি, যে গাম্ভীর্য এবং যে সম্মান; সেইটার সঙ্গে এটা যায় না।’
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় গুন্ডাপান্ডারা কীভাবে জাতীয় নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র দখল করবে তার টেস্ট ম্যাচ আজকে হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ যেটির সাক্ষী হয়েছে সেটি মূলত আগামী নির্বাচন কেমন হতে পারে এবং নির্বাচনে কমিশন কী ভূমিকা পালন করবে সেটির আজকে প্রমাণ হয়ে গেছে। আপনারা দেখেছেন কীভাবে বিএনপির একজন নেত্রী বলেছেন- ‘আমরা চাইলে আজকে এখানে গুন্ডা নিয়ে আসতে পারতাম’, অর্থাৎ গুন্ডার পৃষ্ঠপোষকতা ওনারা দিয়ে আসছেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশনের বাইরে লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনের অফিসের যদি এই অবস্থা হয়, সারা বাংলাদেশে এই বিএনপির যারা রয়েছে এই গুন্ডাদের যারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে তারা কিভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করবে সেটির আজকে টেস্ট ম্যাচ হয়ে গেছে।’