বৈষম্যহীন আমেরিকার সাংস্কৃতিক ঐক্যের ডাকের এক বিরল মুহূর্তের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার দৃঢ় সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা প্রকাশ করেছেন, যা দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক মার্কিন নেতৃতের ভেতরে সম্প্রসারণবাদ কতটা গভীরভাবে প্রোথিত। রবিবার সন্ধ্যায় মার্কিন পুয়ের্তো রিকান গায়ক ব্যাড বানির ‘সুপার বোল’ সঙ্গীত পরিবেশনা, যেখানে ‘একসাথে, আমরা আমেরিকা’ বার্তাটি লেখা একটি বল প্রদর্শিত হয়েছে, ট্রাম্পের দমনমূলক অভিবাসন নীতি এবং তার বর্ণগতভাবে ইঙ্গিতপূর্ণ জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া হয়েছে দ্রুত, অসহনশীল এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠান সমাপ্তির আধ ঘন্টার মধ্যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন, অনুষ্ঠানটিকে ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট, সর্বকালের অন্যতম!’ বলে অভিহিত করেন এবং এটিকে এটিকে তার তথাকথিত ‘আমেরিকার মহিমা’র উপর আক্রমণ হিসাবে তুলে ধরেন। তার এই বিস্ফোরণ সংগীত নিয়ে নয়, বরং ক্ষমতা নিয়ে একজন প্রেসিডেন্টের রোষ, যিনি জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে তার সা¤্রাজ্যবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ সহ্য করতে পারেননি।
এরপর, ট্রাম্প একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত ছবি পুনরায় প্রচার করে তার সাম্রাজ্যবাদী চিন্তাধারাকে আবারো তুলে ধরেছেন। ছবিটিতে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা এবং ভেনেজুয়েলা সহ সমগ্র আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে একটি মার্কিন পতাকা-আচ্ছাদিত মানচিত্র দেখানো হয়, যা মার্কিন দেশপ্রেম নয় বরং স্বাধীন ভূখ-হুলো দখলের ঘোষণাপত্র।
গ্রিনল্যান্ডের উপর নতুন করে মার্কিন চাপের মধ্যে ছবিটি জানুয়ারিতে প্রথম প্রচারিত হয়েছিল, যা একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল যেখানে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই বিদ্যমান চুক্তির অধীনে সামরিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছে।গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবকাঠামোতে প্রায় সম্পূর্ণ দখল উপভোগ করা সত্ত্বেও, ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে দ্বীপটিকে অবশ্যই ‘আমেরিকান’ হতে হবে, এমনকি এক পর্যায়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
ট্রাম্প এবং তার মিত্রদের দ্বারা প্রচারিত পরবর্তী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছবিতে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা গাঁথা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এটিকে আমেরিকান অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে, যা ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরপূর্ণ ডিজিটাল উপনিবেশবাদকে স্বাভাবিক করে তুলেছে।
ট্রম্পের প্রতীকী আগ্রাসন শুধুমাত্র গ্রিনল্যান্ডেই থেমে নেই। কানাডার বিরুদ্ধে তার শুল্ক যুদ্ধের হুমকি এবং দেশটিকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর ঠাট্টা প্রকাশ করে এমন এক বিশ্বদৃষ্টি, যেখানে সার্বভৌমত্ব তুচ্ছ এবং প্রতিবেশীরা কেবল চাপে রাখার বস্তু। এই সমস্ত দম্ভের আড়ালে রয়েছে একটি পরিচিত পুরোনো মার্কিন ছক: সাংস্কৃতিক দম্ভের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ, যাকে ভাগ্য বা নিয়তি বলে সাজানো হয়ে থাকে।