• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
Headline
জুয়া-মাদক-প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর আইন, বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ভাবমূর্তি ফেরাতে নতুন নাম পাচ্ছে পুলিশের দুই ইউনিট এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি: প্রধানমন্ত্রী যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী শ্রীপুরের ৬৮০ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড: স্বস্তি ফিরবে হতদরিদ্র মানুষের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার :প্রধানমন্ত্রী আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না: প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ বিরতির পর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটির বেশি শিশু সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হতে পারে : সংসদে এলজিআরডি মন্ত্রী বিবাহ নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হবে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গুলিস্তানের বাস ডিপো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তৃতীয় সভা অপরাধীরা ফের বেপরোয়া নরসিংদীতে অনুমোদন পেল সরকারি মেডিকেল কলেজ যেভাবে দুবাই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর আইনজীবী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই: প্রধানমন্ত্রী ‘বাজেটে মদ-সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোয় চরম নাখোশ বিরোধী দল’

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস

সবার আগে আন্তর্জাতিক : / ২৭ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

দীর্ঘ ১১০ দিনের রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী সংঘাতের পর অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিতে সই করেছেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, যা স্বাক্ষরের পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে।

চুক্তির মূল শর্তাবলি ও প্রভাব: চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান ও শত্রুতা স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অবিলম্বে পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছে ইরান। পাশাপাশি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রাক-যুদ্ধকালীন জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা শত শত কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ ও ফান্ড পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করা হবে। ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে রাখতে রাজি হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল পুনর্গঠন তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক এই চুক্তিটিকে চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষ পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালেস্টিক মিসাইল এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক সংকট নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনায় বসবে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্পের দেওয়া এক সতর্কবার্তায় কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের নেতারা যদি এই চুক্তি মেনে ‘সঠিক আচরণ’ না করেন, তবে যেকোনো সময় আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করতে পারে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা হবে না। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি আমরা আলোচনার মাধ্যমে পেয়েছি। দুটির মধ্যে কোনো তুলনাই চলে না। চুক্তির আওতায় ইরানের কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র : ইরানের জব্দ করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং ইরানের। তার মতে, ইরানের অর্থ ফেরত না দিলে ডলারে কেউ বিনিয়োগ করবে না। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পথও খুলে যেতে পারে। বুধবার জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করে রেখেছে এবং তা শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের অনেক অর্থ নিয়েছি এবং সেই অর্থ আমাদের কাছে রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের অর্থ নয়, এটা তাদের অর্থ। আমরা একসময় এটি জব্দ করেছিলাম। আমার মনে হয়, আমাদের তা ফেরত দিতেই হবে। কারণ যদি আমরা তা ফেরত না দিই, তাহলে কেউ আর কখনোই ডলারে বিনিয়োগ করবে না।’
অনুলিপি প্রকাশ করলেন পেজেশকিয়ান : বিশ্ব রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী ও নাটকীয় মোড় নিয়ে এসেছে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। এই চুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট তার অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের একটি অনুলিপি প্রকাশ করেন। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান লিখেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়েই প্রকৃত শান্তি অর্জিত হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান তার জাতীয় মর্যাদা এবং স্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে অক্ষুণ্ন রেখেই বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময়ই নিজের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যে অবিচল থেকেছে।’

স্বাগত জানাল রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান : এই শান্তি চুক্তিকে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কূটনৈতিক সাফল্যকে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া, চীন এবং পাকিস্তান। রাশিয়ার কাজান শহরে অনুষ্ঠিত ‘রাশিয়া-আসিয়ান’ শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন একে বৈশ্বিক শান্তির জন্য একটি ‘বড় মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, মস্কো এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাতের স্থায়ী অবসানের একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে চলমান ও ভবিষ্যতের যেকোনো সংকট নিরসনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি একটি আদর্শ ‘মডেল’ হিসেবে কাজ করতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এদিকে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘শান্তির আলো’ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তবে একই সাথে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে চুক্তিতে অংশ নেওয়া সমস্ত পক্ষকে তাদের নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি মেনে চলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া জানান। উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক চুক্তি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপের অনুরোধ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই যুগান্তকারী অগ্রগতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। এই কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে কাতার, সউদী আরব এবং তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই চুক্তিকে ‘অন্ধকার কাটিয়ে শান্তির নতুন সূর্যোদয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

সচল হচ্ছে হরমুজ প্রণালী, একদিনেই পার হলো ৭টি জাহাজ : দীর্ঘ অচলাবস্থার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। মেরিন ট্রাফিকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল অন্তত ৭টি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। তারা জানায়, বৃহস্পতিবার প্রণালী পার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি কার্গো (পণ্যবাহী) জাহাজ, একটি ফ্রান্সের পতাকাবাহী এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ট্যাংকার এবং একটি কুক দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ভিটুমিন ট্যাংকার ওমান উপসাগরের দিকে যাত্রা করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পানামার পতাকাবাহী ‘স্টারওয়ে’ নামক একটি তেলবাহী ট্যাংকার। ৪৬ হাজার টনেরও বেশি জ্বালানি তেল বহনে সক্ষম এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের পরপরই তার স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ট্র্যাকিং রাডার থেকে জাহাজটি পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত মার্চে প্রণালীটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে এই নৌপথে নজরদারি এড়াতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে এই ধরণের কৌশল ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির পররই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চুক্তির প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। গতকাল ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১.১২ শতাংশ কমে ৭৮.৬৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট-এর দাম ৯৮ সেন্ট বা ১.১২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৭৫.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আইজি মার্কেট অ্যানালিস্ট টনি সিকামোর এক নোটে জানান, ‘জ্বালানি বাজার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ইরানের তেল বাজারে ফিরে আসার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই ধারাবাহিক পতন।’

চুক্তি উপেক্ষা করে ফের লেবাননে হামলা ইসরাইলের : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক দুটি ইসরাইলি ড্রোন হামলায় এক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সাইক্লিস্টসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কফর তিবনিত শহরে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে গাড়িতে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমটি। তিনি হলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সাইক্লিস্ট আলী ইসমাইল তুফাইলি। এদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেবদিন শহরে পৃথক আরেকটি ড্রোন হামলায় আরও এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও দক্ষিণ লেবাননে সেনা অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননের অভ্যন্তরে তাদের বাহিনী অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে ‘হুমকি অপসারণ’ না হওয়া পর্যন্ত তারা অভিযান চালিয়ে যাবে। সম্প্রতি ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তাদের সেনারা লেবাননের সীমান্ত ছাড়িয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) ভেতরে অবস্থান করছে। এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী জানায়, ‘সেনারা দক্ষিণ লেবাননে তাদের জন্য নির্ধারিত অপারেশন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে এবং তারা হুমকি দূর করার কাজ চালিয়ে যাবে।’ অথচ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ১৪ দফার চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, ‘লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।’ এই শান্তি চুক্তির পরেই ইসরাইলের এমন অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি সত্ত্বেও ইসরাইলের এই আগ্রাসী মনোভাব ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। সূত্র : আল-জাজিরা, আনাদুলু, সিএনএন, গালফ নিউজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031