• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
Headline
জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য : প্রধানমন্ত্রী জুয়া-মাদক-প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর আইন, বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ভাবমূর্তি ফেরাতে নতুন নাম পাচ্ছে পুলিশের দুই ইউনিট এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি: প্রধানমন্ত্রী যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী শ্রীপুরের ৬৮০ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড: স্বস্তি ফিরবে হতদরিদ্র মানুষের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার :প্রধানমন্ত্রী আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না: প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ বিরতির পর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটির বেশি শিশু সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হতে পারে : সংসদে এলজিআরডি মন্ত্রী বিবাহ নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হবে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গুলিস্তানের বাস ডিপো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তৃতীয় সভা অপরাধীরা ফের বেপরোয়া নরসিংদীতে অনুমোদন পেল সরকারি মেডিকেল কলেজ যেভাবে দুবাই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর আইনজীবী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড

সবার আগে খেলা : / ২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

গোলার্ধ পৃথিবীতে চলছে গোলের খেলা। ফুটবল নামক গোল বস্তুতে মোহবিষ্ট গোটা বিশ্ব। ৪৮ দলের জমজমাট লড়াই। এই লড়াই দেখতে দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। টাইম জোনের কারণে এক এক দেশে খেলা শুরু হচ্ছে এক এক সময়ে। কোথায়ও সন্ধ্যা বেলা। কোথায় মধ্য রাতে। কোথায় ভোর বেলা। আবার কোথায়ও সকালে। এই কারণে ব্যক্তি জীবনের কর্মকাণ্ডে ঘটেছে ছন্দ পতন। তাতে কী? সেই ছন্দ পতন মেনে নিয়েছেন অনেকেই। কারণ গোলের খেলা বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা থেকে নিজেদের বিরত রাখা সম্ভব নয়। বিশ্বকাপের বাঁশি বেজে উঠেছে ১১ জুন। শেষ বাঁশি বাজবে ১৯ জুলাই। এই সময়টুকু বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য অনেকেই উৎসর্গ করেছেন।

১৯৩০ সালে উরুগুয়ে যখন বিশ্বকাপ ফুটবলের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন দলের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩টি। সময়ের পরিক্রমায় দলের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এবার গিয়ে ঠেকেছে ৪৮টিতে। এবার একসঙ্গে বেড়েছে ১৬টি। ২০২২ সালে কাতারে সর্বশেষ আসরে দল ছিল ৩২টি। ১২ গ্রুপে ৪৮ দলের লড়াইয়ের প্রথম রাউন্ড শেষ হয়েছে। উল্লাস, চমক আর অঘটনে ভরপুর ছিল প্রথম রাউন্ড।
প্রথম রাউন্ডে বিস্ময় কী ছিল? মেসির হ্যাটট্রিক, না সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫ লাখ জনগোষ্ঠীর কেপ ভার্দের প্রথমবার খেলতে এসেই রুখে দেওয়া, না আফ্রিকার আরেক দেশ কঙ্গো যারা দ্বিতীয়বার খেলছে বিশ্ব মঞ্চে, তারা রোনালদোর পর্তুগালকে জিততে না দেওয়া? তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলে জয় দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করা। মেসি নৈপুণ্যে মুগ্ধ বিশ্ব অপার নয়নে দেখেছে বয়সকে হার মানিয়ে ৩৮ বছরেও কী তারুণ্য দীপ্ত খেলা খেলছেন। বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার পর গোটা বিশ্ব মেতে উঠে মেসি বন্দনায়। অথচ না বিশ্বকাপ, না কোপা আমেরিকা কাপ কোনো শিরোপাই দেশবাসীকে উপহার দিতে না পেরে আবেগের বশবর্তী হয়ে অভিমানে তিনি ফুটবল থেকেই অবসর নিয়ে ফেলছিলেন। পরে অবশ্য তিনি আবার ফিরে এসেছিলেন। তারপর চলছে তার একের পর এক যাদুকরী নৈপুণ্য। জিতেছে কোপা আমেরিকা। জিতেছেন বিশ্বকাপ। এবার খেলছেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ। কে জানে আবারও তার হাতে উঠতে পারে সোনালি ট্রফি।
মেসির নৈপুণ্যে সবাই মুগ্ধ হলে, নবাগত কেপ ভার্দে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দেওয়া ছিল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অবাক পৃথিবী। নজর কেড়েছেন গোলপোস্টের সতীত্ব রক্ষার পাহারাদার হয়ে থাকা ভোজিনহা। তার বীরত্ব ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। উঠে এসেছেন প্রাদপ্রদীপের আলোয়। বলা যায় এবারের আসরে প্রথম রাউন্ডে তিনিই ছিলেন একমাত্র উদিত নতুন তারকা। যদিও তার বয়স ৪০ পার হয়েছে। কেপ ভার্দের মতোই ৫২ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে কঙ্গোর রোনালদোর পর্তুগালকে ঠেকানোও ছিল আরেকটি চমক। তবে তা কেপ ভার্দের মতো অতটা আলোচনায় আসেনি। ম্যাচ শেষে কঙ্গোর ড্র করা যতটা না আলোচনা ছিল, তার চেয়ে ঢের বেশি আলোচনায় ছিল রোনালদোর নিষ্প্রভতা। মেসির মতো তারও শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু মেসি ছিলেন উজ্জ্বল, সেখানে রোনালদো ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে।
ফুটবল বিশ্বে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শীর্ষে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার আগেই মাঠে নামে হেক্সা মিশনে থাকা ২০০২ সালের পর আর শিরোপা জিততে না পারা ব্রার্জিল। প্রতিপক্ষ ছিল মরক্কো। কিন্তু ব্রাজিল জিততে না পারায় সাম্বা নৃত্য দেখা যায়নি। প্রথম গোল হজম করে সবাইকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছিল। পরে ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতা আনলেও পরে আর জিততে পারেনি। ব্রাজিলের খেলা অবশ্য তার সমর্থকদের মন ভরাতে পারেনি। ব্রাজিলের জন্য আরও হতাশার ছিল তাদের ভরসার প্রতীক নেইমারের না খেলা। নেইমারও এবার তার শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। আশা করা যাচ্ছে হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচে নেইমারকে মাঠে দেখা যেতে পারে। প্রথম রাইন্ডে আর তেমন কোনো অঘটন ঘটেনি। অবশ্য জার্মানি দেড় লাখ জনতার দেশ নবাগত কোরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ২০১৪ সালের আসরে ব্রাজিলকে সমান ব্যবধানে হারানার ঘটনাটা আবার সবাইকে মনে করিয়ে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেভেন আপ শব্দটি খুব বেশি করে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তবে ২০১৮ সালের রানার্সআপ এবং ২০২২ সালের সেমিফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৪-২ গোলে জয় ছিল অনেকটা চমক।
প্রথম রাউন্ডে ম্যাচ হয়েছে ২৪টি। গোল হয়েছে ৭৫টি। গড়ে প্রতি ম্যাচে ৩টির সামান্য বেশি করে গোল হয়েছে। এবার গোল বেশি হওয়ার কারণ দলগুলোর শক্তির তারতম্য। একসঙ্গে ১৬টি দল বৃদ্ধি পাওয়াতে অনেক দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেলেও র‌্যাঙ্কিয়ের ওপরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে তাদের শক্তির ব্যবধান বেশি। যে কারণে গোলও হচ্ছে বেশি। ২৪ ম্যাচের মাঝে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে জার্মানি। তারা ৭-১ গোলে হারিয়েছে কোরাসাওকে। এর পরের বড় জয় ছিল সুইডেনের। তারা ৫-১ গোলে হারিয়েছে তিউনিসিয়াকে। এ ছাড়া নরওয়ে ৪-১ গোলে ইরাককে এবং ইংল্যান্ড ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে পরাজিত করে। ৯টি খেলায় নিষ্পত্তি হয়নি। এর মাঝে ‘বি’, ‘জি’ ও ‘এইচ’ গ্রুপের সবগুলো খেলাই ড্র হয়। এশিয়ার দেশগুলো প্রথম রাউন্ডে অনেক ভালো করেছে। জয় পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে চেক রিপাবলিককে এবং অস্ট্রেলিয়া ২-০ গোলে তুরস্ককে পরাজিত করে। ড্র করেছে সৌদি আরব, কাতার, জাপান, ইরান। হেরেছে ইরাক, উজবেকিস্তান ও জর্ডান। ইরাক ৪-১ গোলে নরওয়ের কাছে, উজবেকিস্তান ৩-১ গোলে কলম্বিয়ার কাছে এবং জর্ডান ৩-১ গোলে অস্ট্রিয়ার কাছে হেরে যায়।
প্রথম রাউন্ড শেষে হ্যাটট্রিক করে সবার ওপরে আছেন মেসি। তার পেছনে আছেন ২ গোল করে ফ্রান্সের এমবাপ্পে, নরওয়ের হালান্ড, ইংল্যান্ডের কেইন ও জার্মানির হাভার্টজ। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই রেফারি দুই দলের তিনজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখান। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই জন, মেক্সিকোর একজনকে। প্রথম ম্যাচেই তিনজনকে লাল কার্ড দেখানোতে ধারণা করা হয়েছিল এবারের আসরে লাল কার্ডের সংখ্যা বেড়ে যাবে। কিন্তু বাকি ২৩ ম্যাচে আর কোনো লাল কার্ড কোনো খেলোয়াড়কে রেফারি দেখাননি। সর্বশেষ ২০২২ সালের আসরে মাত্র চারজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিলেন।
এবারের আসরে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করার মতো। তাহলো দর্শক উপস্থিতি। টিকিটের উচ্চমূল্য থাকায় দর্শক উপস্থিতি কম হবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই দর্শকের ভরপুর উপস্থিতি। অস্ট্রিয়া-জর্ডান ম্যাচেও ৬৮,৫২৭ জন দর্শক খেলা দেখেছেন। সবচেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উজকেবিস্তান-কলম্বিয়ার ম্যাচে ৮০,৮২৪ জন করে। সবচেয়ে কম ছিল ঘানা-পানামা ৪২,২৯২ জন। ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচে দর্শক উপস্থিত ছিলেন ৮০,৬৬৩ জন। আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার ম্যাচে দর্শক এসেছিলেন ৬৯,০৪৫ জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031