হজযাত্রীদের সেবায় যারা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। পবিত্র হজ পালন করতে সউদী আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি হজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করে বলেন, দায়িত্বে অবহেলা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা শুধু সউদী আরবে এসে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করতে পারাটা সৌভাগ্যের বিষয়। সবাই যেন শতভাগ সন্তুষ্ট থাকে, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।
গত বুধবার রাতে তিনি সৌদি আরবের মক্কায় স্থাপিত বাংলাদেশ হজ মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং হাজী, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় ধর্মমন্ত্রী প্রতিটি রুমে গিয়ে রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং হজযাত্রীদের সমস্যার কথা শোনেন। তিনি অসুস্থ হজযাত্রীদের আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন। এসময় তিনি বলেন, আপনাদের এই মুহূর্তে কী প্রয়োজন—মেডিসিন, চিকিৎসা বা আর্থিক সহায়তা—যা দরকার হবে আমরা সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। হজযাত্রীদের খেদমত করতে যদি আমরা ব্যর্থ হই, তাহলে আল্লাহর কাছেও জবাবদিহি করতে হবে, সরকারের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে।
হজ মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকরা মন্ত্রীকে জানান, সৌদি আরবে অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। কোনো কোনো দিন আড়াই হাজারেরও বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে মক্কায় চিকিৎসকদের ওপর চাপ অনেক বেশি।
চিকিৎসকরা আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ চিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছে এবং তারা দিনরাত পরিশ্রম করে হাজীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ধর্মমন্ত্রী চিকিৎসকদের এই আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।
পরিদর্শন শেষে ধর্মমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার চিকিৎসাসেবার মান অনেক উন্নত হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, রোগীরাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নির্দেশনা দিয়েছেন, হজ কার্যক্রমে নিয়োজিত সবাই তা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাদের সঠিক বুদ্ধি ও তৌফিক দান করেন, যাতে আরও সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হাজীদের খেদমত করতে পারি।