২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে হাজিদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে সউদী আরব। একদিকে মক্কা, মদিনা ও পবিত্র স্থানগুলোতে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; অন্যদিকে হাজিদের আবহাওয়ার নিখুঁত আপডেট দিতে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি।
সউদী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের হজে সামরিক, বেসামরিক, চিকিৎসা ও অপারেশনাল কর্মীদের সমন্বয়ে একটি মহাপরিকল্পনা পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। হাজিদের নিরাপত্তা দিতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের অন্যান্য সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনী।
হজের পবিত্র স্থানগুলোতে হাজিদের বিশাল ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের বিপজ্জনক বস্তু বা উপাদান শনাক্ত করতে নিয়োজিত থাকবে স্থলবাহিনী। বিমানবাহিনীর বিশেষ দল সার্বক্ষণিকভাবে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নজরদারির পাশাপাশি মক্কার আকাশপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে তারা।
নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তার জন্য। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ দল, ড্রোন অপারেশন এবং দক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল সার্বক্ষণিক কাজ করবে।
৪১টি চিকিৎসা কেন্দ্র ও সার্বক্ষণিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স
হাজিদের চিকিৎসাসেবা দিতে মক্কা ও মদিনার ৪১টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মেডিকেল মিশন মোতায়েন করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। এই মিশনগুলোর অধীনে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে থাকছে ১,১০০টিরও বেশি শয্যা (বেড)। আর হাজিদের সেবায় দিনরাত নিয়োজিত থাকবেন ২,১৬০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। এছাড়া, যেকোনো অতি-জরুরি রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে ৪টি সুসজ্জিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
নিরাপত্তা ও চিকিৎসার পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে হাজিদের জন্য ধর্মীয় দিকনির্দেশনামূলক বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি সামরিক কর্মকর্তাদের আতিথেয়তা প্রদান এবং কোয়ালিশন অপারেশনে শহীদ ও আহত কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় হজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সেকেন্ডের মধ্যেই আবহাওয়ার খবর দেবে এআই ‘বয়ান’
এদিকে হজের ইতিহাসে এবার প্রযুক্তির এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে সউদীর জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। হাজিদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সচেতনতামূলক বার্তা দিতে এবার সরাসরি ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। সেই সঙ্গে চালু করা হয়েছে একটি বহুভাষিক মোবাইল অ্যাপ।
এনসিএম-এর গবেষণা ও উদ্ভাবন বিভাগের মহাপরিচালক ড. তুর্কি হাবিবুল্লাহ জানান, সম্পূর্ণ সউদী বিশেষজ্ঞদের হাত ধরে তৈরি এই এআই প্রযুক্তি প্রথাগত গাণিতিক মডেলের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
সনাতন পদ্ধতিতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার ও জটিল অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজন হতো, যা ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কল্যাণে এখন মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিখুঁত পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব।
এই নতুন এআই মডেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বয়ান’। এটি বর্তমানে শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এর পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু হবে।