• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ, দিলেন ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ১৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার বক্তব্যটি আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝানো হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে –

সাম্প্রতিক সময়ে “SameerScane” নামের একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার কিছু মন্তব্য নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, আমার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করছি।

প্রথমত, এগুলো সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত; এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়। আমি মূলত বলতে চেয়েছি যে, সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার। আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা ছিল।

আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, গত সতেরো বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে, এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজমের মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। আমি এসব প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করি এবং বিশ্বাস করি যে এগুলোর কোনো স্থান একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, পডকাস্টের আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। যদি এটি একটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা নীতিগত আলোচনার পরিসর হতো, তাহলে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনাও অবশ্যই আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট হতো।

তবে একটি বিষয়ে আমি স্পষ্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতি গঠনে তার অবদানের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার একটি স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক।

আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও দায়িত্বে রয়েছেন, তারাও এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও সমৃদ্ধ, আরও গবেষণানির্ভর এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে – এটাই আমার প্রত্যাশা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা এমন একটি একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই যেখানে সততা, মেধা, গবেষণার মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে; যেখানে প্লেজারিজম বা অন্য কোনো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার কোনো স্থান থাকবে না। সেটিই হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রতি প্রকৃত সম্মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব।

তারপরও আমার আংশিক বক্তব্যটি যেহেতু কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আমার অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন সেজন্য আমার এই বক্তব্যটি আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং আশা করি এরপর এ বিষয়ে আর কোন বিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।

সবাইকে ধন্যবাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031