• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন

আদালতে রামিসার বাবা-মায়ের রোমহর্ষক বর্ণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৩০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। এ সময় আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা দেন তারা।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তারা এই সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। অসুস্থ বোধ করায় আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ার বসে সাক্ষ্য দেন তিনি।

আদালতে তিনি বলেন, ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। ক্যান্টনমেন্ট হয়ে বনানী কাকলীতে পৌঁছে অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রী পারভীন আক্তারের ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। বাসায় এসে দেখেন ভবনের সামনে অনেক লোকজন জড়ো হয়েছে। পরে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে স্ত্রী জানান, রামিসা পাশের ফ্ল্যাটের ভেতরে আটকা রয়েছে। আশপাশের লোকজন দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে ভাঙার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভেতর থেকে দরজার মূল লক খুলে দেন আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। পরে সবাই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে তিনি টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান। স্বপ্না খাতুন তখন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে আসামিদের ব্যবহৃত কক্ষের স্টিলের খাট উঁচু করে নিজের মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে আদালতে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ এসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর তিনি থানায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে এজাহার দায়ের করেন।

জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ঘটনার সময় ও অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় ও এবং পুরো ঘটনা নিজ চোখে দেখেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি যতটুকু দেখেছি, তা-ই বলেছি।” আসামিদের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় বা শত্রুতা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। সাক্ষ্য শেষে তিনি পুলিশের সহায়তায় বিমর্ষ অবস্থায় আদালত ত্যাগ করেন।

এদিকে আদালতে সাক্ষ্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তারও। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে রান্নার কাজ করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসাকে ছোট মেয়ে রামিসাকে নিয়ে চাচার বাসায় যেতে বলেন। পরে রান্নাঘরে থাকা অবস্থায় শিশুদের শব্দ না পেয়ে তিনি ধারণা করেন তারা চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর তিনি চিৎকারের শব্দ শুনলেও সেটি দূরে মনে হয়েছিল বলে জানান। পরে গেটের সামনে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান।

বড় মেয়ে ফিরে এলে রামিসাকে না পেয়ে ভবনের বিভিন্ন তলায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটে গিয়ে বারবার দরজা ধাক্কা দিলেও কেউ খুলছিল না। তিনি জানান, দরজার নিচে রামিসার জুতা দেখতে পান। এরপর চিৎকার শুরু করলে ভবনের লোকজন জড়ো হয় এবং তিনি স্বামীকে ফোন দেন। আশপাশের লোকজন উঁকি দিয়ে কিছু দেখতে না পেলেও রাজু নামে এক যুবক ভিডিও করলে দেখা যায়, ভেতরে স্বপ্না খাতুন হাঁটাহাঁটি করছেন। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাথরুমে রক্ত দেখতে পান সবাই।

পারভীন আক্তার বলেন, তিনি বারবার স্বপ্না খাতুনকে দরজা খুলতে বললেও তিনি দরজা খোলেননি। পরে পুলিশ এসে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। আদালতে কাঠগড়ায় থাকা স্বপ্না খাতুনকে দেখিয়ে তিনি বলেন, “ওরে ওই সময় বলছি, বোন দরজা খুলে দে।” এ ছাড়া আসামি সোহেল রানাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, “ধর্ষণ ও হত্যাও করেছে।”

জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সোহেল রানা খুন করেছেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া সোহেল গ্রিল কেটে পালিয়েছে বলে আশপাশের লোকজনের কাছে শুনেছেন বলেও আদালতকে জানান তিনি।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিন ধার্য করেন আদালত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031