• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন
Headline
প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেই কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনে বড় রদবদল বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: ডা. জাহিদ বাংলাদেশে এসেই দুই দেশ এক করার কথা বললেন নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার বাজেটে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর সৌর বিদ্যুৎখাতের বিকাশে কর-শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব ফ্যাসিবাদ আমলে সবচেয়ে সংকটাপন্ন খাত ছিল শিক্ষা: সংসদে অর্থমন্ত্রী নতুন অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন আজ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট বাজেট ২০২৬-২৭, যেসব পণ্যের দাম কমতে ও বাড়তে পারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু ৫ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ স্থানীয় নির্বাচনে আ.লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে যা বললেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান খুলনা শিপইয়ার্ড প্রকল্পের মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানোর কারণ তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণে অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী বিদেশে ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে বাধ্য করতে আইন করবে সরকার :সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী বছর যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বই ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৪৭ Time View
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

আজ রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ৪ জুন মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এ দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার আগে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু আসামিরা কীভাবে অভিযুক্ত, সাক্ষিরা আসামিদের সমন্ধে কী বলেছে এবং আইনের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও রেফারেন্স তুলে ধরেন। সর্বশেষ সাক্ষিরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে মর্মে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

আর যুক্তিতর্ক শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেটা ফরেনসিক করেননি। এটার ওপর ভিত্তি করে সাজা দেওয়া যেতে পারে না। নিজেকে জড়িয়ে জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। এই বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে তার যাবজ্জীবন সাজা প্রার্থনা করছি। স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ১৬ জন সাক্ষীর লাশ গুমের অভিযোগ ছাড়া কিছুই নেই। তাকে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাজা দেওয়া হোক।

গত ২ জুন এই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষিরা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।

এরপর আসামি সোহেলের কিছু বলার আছে কি না, জানতে চাইলে সোহেল আদালতকে বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার আমাকে মাফ করে দেন। আরেকটা কথা আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ।’ এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন আপনারটা আপনি বলেন। এরপর স্বপ্নার বক্তব্য শুনতে চান আদালত।

প্রথমে নিশ্চুপ থাকলে আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দরজা কেন খুলেননি এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কি না। এ সময় তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে একই শাস্তি আপনারও হবে। এরপর স্বপ্না বলেন, ‘আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।’

এ মামলায় গত ২ জুন চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলের সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031