গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমান এবং তাঁর বোনের জানাজা নামাজে ব্যাপক মানুষের সমাগম ঘটে। সোমবার (৮ জুন) সকাল ১১টায় শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা এলাকায় তাঁর নিজ বাসভবনের পাশের ইংলিশ এডুকেয়ার মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই জানাজার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
জানাজায় দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের মানুষ উপস্থিত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয় এবং মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমের স্মৃতিচারণ করেন।
তবে জানাজাকে কেন্দ্র করে কিছু আলোচনা ও সমালোচনাও দেখা যায়। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মতামত দেন যে, শ্রীপুর সদরের কোনো স্কুল বা কলেজ মাঠে আরও একটি জানাজা হলে অধিকসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণের সুযোগ পেতেন। কারণ আনিছুর রহমান দীর্ঘ সময় শ্রীপুরের মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
জানাজার দিন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন সড়কে পুলিশ টহল থাকায় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার আতঙ্কে উপস্থিত হতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এ বিষয়ে গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের নিয়মিত টহল ছিল। তিনি আরও বলেন, জানাজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আটক বা হয়রানির ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, আনিছুর রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ১৯৯১ সালে শ্রীপুর কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে শ্রীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন এবং টানা পাঁচবার দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
বিগত সময়ে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন, যার মধ্যে কিডনি সমস্যা ও ডায়াবেটিস উল্লেখযোগ্য। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরবর্তীতে রবিবার (৭ জুন) তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানানো হয়। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শ্রীপুরসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।