এই ১০০ দিনে দক্ষিণ লেবাননের বহু গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্তত ২৪৫ জন শিশু। এ ছাড়া ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রায় শিশু ৯০০ জন।
নিহতদের বড় একটি অংশ বেসামরিক নাগরিক। কমপক্ষে ১৩১ জন প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ একই স্থানে পরপর দুই বা তিন দফা হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ১৭টি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনটি হাসপাতাল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১০০ দিনে সাংবাদিকদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বর্তমানে সংঘাত বন্ধে নানা পর্যায়ে চেষ্টা চলছে। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবানন সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের সরাসরি আলোচনার পাশাপাশি ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে তারা লেবাননের সংঘাতের বিষয়টিকেও যুক্ত করবে।
কিন্তু হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিরোধী। সম্প্রতি সংগঠনটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে, যা সংঘর্ষের ধরন বদলে দিয়েছে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক ও হিজবুল্লাহবিষয়ক বইয়ের লেখক নিকোলাস ব্লানফোর্ড বলেন, ‘তারা আবার গেরিলা যুদ্ধের শিকড়ে ফিরে গেছে। নব্বইয়ের দশকের মতো এখন তাদের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি বাহিনীকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দেওয়া। ইসরায়েল যেসব নতুন প্রতিরক্ষা বা আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেগুলো অতিক্রম করে তারা ইসরায়েলি সেনাদের হতাহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান শুরু হয় ২ মার্চ। হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে টার্গেট করে ছয়টি রকেট নিক্ষেপ করলে এই সংঘাত শুরু হয়। এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর প্রথম সরাসরি প্রতিক্রিয়া।
হিজবুল্লাহর দাবি, ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনাও তাদের প্রতিক্রিয়ার কারণ ছিল।
অন্যদিকে লেবানন সরকার দেশজুড়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চাপও বাড়ছে।
গত ২ মার্চ লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে এখন পর্যন্ত সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতার ওপর এর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি। হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ইরানও লেবাননের পরিস্থিতিকে নিজেদের যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ করার চেষ্টা করছে। লেবানন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার ওপর আস্থা রেখে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা