ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তেহরান টাইমস। নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব এক গভীর চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। ইরানকে আক্রমণ করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা মূলত একটি ‘ভুল হিসাবের’ ওপর ভিত্তি করে, যা শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করছে বিমান হামলা বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা সম্ভব। কিন্তু ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। বিপ্লবের শুরুর দিকে এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় যখন ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বর্তমানের চেয়ে অনেক দুর্বল ছিল, তখনও বড় বড় ষড়যন্ত্র ও গুপ্তহত্যা চালিয়ে এই সরকারকে টলানো যায়নি। বর্তমানে ইরান অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দেশের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী পক্ষগুলো অত্যন্ত দুর্বল।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের জাতিগত বৈচিত্র্য এবং দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক কষ্টকে পুঁজি করে গণঅভ্যুত্থানের আশা করছে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা এবং ২০২৫ সালের জুন মাসের ১২ দিনের সংঘাত দেখিয়েছে যে, বিপদের সময় ইরানের জনগণ নেতৃত্বের পাশেই দাঁড়ায়। সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে যে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ অব্যবস্থাপনা নয়, বরং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থায়’ ইরান একটি বড় বাধা। ট্রাম্প চান ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে, যাতে আমেরিকা চীনের সাথে তার বড় লড়াইগুলোতে মনোনিবেশ করতে পারে। এই পরিকল্পনায় ইসরায়েলকে ‘নীল নদ থেকে ফোরাত’ পর্যন্ত বিস্তৃত করার একটি প্রচ্ছন্ন আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তবে ইরানকে পরাজিত করতে না পারলে এই পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। যদি এই যুদ্ধে ইরান পরাজিত না হয়, তবে সেটিই হবে ইরানের বড় বিজয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব আরও বাড়বে এবং তার মিত্র দেশগুলো শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল তার বর্তমান সীমানার ভেতরেও টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে সংকটে পড়বে।
প্রতিবেদনের শেষ অংশে বলা হয়েছে, আকাশপথে হামলা চালিয়ে বা সীমান্ত দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ইরানকে ভাঙার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং এই সংঘাত থেকে ইরান আরও শক্তিশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আধিপত্যের অবসান ঘটবে।