• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের খালেদা জিয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার নিলেন জাইমা রহমান শূন্যপদ পূরণে ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে যা বললেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের সমৃদ্ধি সম্ভব নয় : স্পিকার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু শুক্রবার মত-পথের পার্থক্য থাকতে পারে, তর্ক-বিতর্ক যেন শত্রুতায় রূপ না নেয় স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ইরানে চার ইসরায়েলি ‘গুপ্তচর’ গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন আজ ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ৭০০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: শিক্ষামন্ত্রী

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর যে ফোনালাপে খামেনির ভাগ্য নির্ধারণ হয়

ইনসাফ বার্তা আন্তর্জাতিক : / ১৫ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ সামরিক হামলায় সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, হামলা শুরুর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে সেই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপটি হয়েছিল।

কয়েক দশক ধরে যে অভিযানের জন্য তিনি তাগিদ দিয়ে আসছিলেন, তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইসরায়েলি নেতা তখন যুক্তি দেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করার এর চেয়ে ভালো সুযোগ হয়তো আর আসবে না।

সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প উভয়ের কাছেই এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল যা নিশ্চিত করে যে, আলি খামেনি শিগগিরই তেহরানে তার কম্পাউন্ডে তার প্রধান লেফটেন্যান্টদের সঙ্গে দেখা করবেন, যা তাদের সবাইকে একটি ‘শীর্ষ নেতৃত্ব ছিন্নকারী হামলা’র ঝুঁকিতে ফেলবে। এটি কোনো দেশের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এমন একটি হামলা যা ইসরায়েল প্রায়শই ব্যবহার করে কিন্তু ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এর ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম করে।

রয়টার্স জানায়, ফোনকলটি সম্পর্কে অবগত তিনজনের বরাত দিয়ে বলা হয়, নতুন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর উভয় নেতা ফোনকলে যোগ দেন, যা থেকে বোঝা যায় যে- তেহরানের বৈঠকটি শনিবার রাতের পরিবর্তে শনিবার সকালে এগিয়ে আনা হয়েছিল।

জানা গেছে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনকলটি হওয়ার আগেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখন বা কী পরিস্থিতিতে এতে জড়িত হবে, তা তখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোনালাপের সময়, এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছিলেন যে- খামেনিকে হত্যা করতে এবং ‘ট্রাম্পকে হত্যা করার জন্য ইরানের পূর্ববর্তী প্রচেষ্টার প্রতিশোধ নিতে’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর পাবে না।

এর মধ্যে ছিল ২০২৪ সালে, যখন ট্রাম্প প্রার্থী ছিলেন- তখন ইরানের দ্বারা পরিচালিত একটি ভাড়াটে খুনের ষড়যন্ত্র। বিচার বিভাগ এক পাকিস্তানি ব্যক্তিকে এই পরিকল্পনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে লোক নিয়োগের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে, যা ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধের অংশ।

নেতানিয়াহুর যুদ্ধের প্রস্তাব
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ফোন কলের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছিল। এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের অনেককে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে, ট্রাম্পের এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

রয়টার্সের মতে, মাত্র কয়েক দিন আগের একটি সম্ভাব্য তারিখ খারাপ আবহাওয়ার কারণে বাতিল করা হয়েছিল।

ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন যে, পশ্চিমা বিশ্ব ও বহু ইরানির কাছে দীর্ঘদিন ধরে ঘৃণিত ইরানি নেতৃত্বকে নির্মূল করতে সাহায্য করার মাধ্যমে তিনি ইতিহাস গড়তে পারেন।

ইসরায়েলি এই নেতা যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পদক্ষেপে উৎসাহিত হয়ে ইরানিরা হয়তো আবারও রাস্তায় নেমে আসবে এবং সেই ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে উৎখাত করবে, যা ১৯৭৯ সাল থেকে দেশটি শাসন করে আসছে এবং তখন থেকেই বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হামলার নির্দেশ দেওয়ার কথা ভাবার সময় নেতানিয়াহুর যুক্তি ট্রাম্পকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল তা স্পষ্ট নয়।

তবুও, রয়টার্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষের কাছে এই ফোনকলটি ছিল ইসরায়েলি নেতার সমাপনী যুক্তি।

ফোনকলটি সম্পর্কে অবগত অন্তত তিনজন ব্যক্তি বিশ্বাস করেন যে, ইরানের নেতাকে হত্যার সুযোগ কমে আসার গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর যুক্তিগুলোই ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে সামরিক বাহিনীকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।

২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকালে ইরানে প্রথম বোমা হামলা চালানো হয়। সেদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে খামেনি নিহত হয়েছেন।

পরে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করা, ইরানি শাসকগোষ্ঠীর নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা, তাদের প্রক্সি শক্তিকে অস্ত্রসজ্জিত করার ক্ষমতা শেষ করা এবং এটা নিশ্চিত করা যে- ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।’

ইসরায়েলের অস্বীকার
ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে টেনে এনেছে, এমন অভিযো অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এই প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেউ কি সত্যিই মনে করে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কী করতে হবে তা অন্য কেউ বলে দিতে পারে? আরে, এসব কী!’

ট্রাম্প প্রকাশ্যে এটিও বলেছেন যে, হামলা চালানোর সিদ্ধান্তটি তার একারই ছিল।

কিন্তু রয়টার্সের প্রতিবেদনগুলো থেকে দেখা যায়, ইসরায়েলি নেতা একজন কার্যকর প্রবক্তা হতে পারতেন এবং সিদ্ধান্তটির বিষয়ে তার উপস্থাপনা, যার মধ্যে ট্রাম্পকে হত্যার প্রচেষ্টার তত্ত্বাবধানকারী বলে অভিযুক্ত এক ইরানি নেতাকে হত্যা করার সুযোগের বিষয়টিও ছিল, ট্রাম্পের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ মার্চের শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এই অভিযানের অন্তত একটি উদ্দেশ্য ছিল প্রতিশোধ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল, এবং শেষ হাসিটা হেসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।’

জুন যুদ্ধ
২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে চান এবং তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করতে আগ্রহী। কিন্তু গত বসন্তে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি হামলা চালানোর কথা ভাবতে শুরু করেন বলে জানা গেছে।

প্রথম হামলাটি হয় জুনে, যখন ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকজন ইরানি নেতাকে হত্যা করে। পরে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় যোগ দেয় এবং ১২ দিন পর সেই যৌথ অভিযান শেষ হলে ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই সাফল্যে উল্লাস প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ করে দিয়েছে।

কিন্তু কয়েক মাস পর, অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে দ্বিতীয় একটি বিমান হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়।

ইসরায়েলও খামেনিকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কারন তাদের দীর্ঘদিনের ঘোর ভূ-রাজনৈতিক শত্রু এবং যিনি বারবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছিলেন এবং ভারি অস্ত্রে সজ্জিত প্রক্সি বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এই বাহিনীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হামাস জঙ্গি গোষ্ঠী এবং লেবানন-ভিত্তিক হিজবুল্লাহ।

ইসরায়েলিরা এই ধারণা নিয়েই ইরানে হামলার পরিকল্পনা শুরু করেছিল।

দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেট পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার-ইন-চিফকে বলেছিলেন, জুনের যৌথ অভিযানের ফলাফলে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।

জানা গেছে, ওই আলোচনায় ট্রাম্প আরেকটি বোমা হামলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলেও, আরেক দফা কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে চেয়েছিলেন।

কী কারণে ট্রাম্প আবার ইরানে হামলা করতে উদ্বুদ্ধ হলেন?
প্রতিবেদন অনুসারে, দুটি ঘটনা ট্রাম্পকে ইরানে পুনরায় হামলা চালাতে প্ররোচিত করেছিল। এর মধ্যে একটি ছিল ৩ জানুয়ারি কারাকাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযান, যেটিতে কোনো আমেরিকান নিহত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের এক শত্রুকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে পেরেছে। যা এই সম্ভাবনাকে তুলে ধরে যে, উচ্চাভিলাষী সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি খুব কমই হতে পারে।

অন্যটি ছিল ইরানে শুরু হওয়া বিশাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, যার জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর নৃশংস ব্যবস্থা নেয় এবং এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়।

এরপর ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তাৎক্ষণিক প্রকাশ্যে তেমন কিছুই করেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তা জানান, গোপনে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যে সহযোগিতার আশ্বাস আরও জোরদার হয়েছিল।

এর কিছুদিন পরেই, ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের সময়, ইসরায়েলি নেতা ট্রাম্পকে ইরানের ক্রমবর্ধমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং উদ্বেগের নির্দিষ্ট কিছু স্থানের কথা উল্লেখ করেন।

ব্যক্তিগত কথোপকথন সম্পর্কে অবগত তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিপদগুলোও তুলে ধরেন, যার মধ্যে এই ঝুঁকিও ছিল যে ইরান হয়তো শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারির বৈঠকগুলো নিয়ে করা প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস।

চূড়ান্ত ডাক
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক কূটনীতিকরা ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি বলে মনে করছিলেন।

রয়টার্স ওই ব্রিফিং সম্পর্কে জানতেন এমন দুজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানায়, একটি সফল হামলা থেকে সম্ভাব্য কী কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, যার মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়ে পেন্টাগন ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।

নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২৪ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণ করুক বা না করুক, ইসরায়েল সম্ভবত ইরানে হামলা চালাবে এবং এর জবাবে ইরানও সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাবে।

ট্রাম্প আরও বিশ্বাস করতেন , ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যার ফলে তেহরানে এমন একটি সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করতে আরও বেশি ইচ্ছুক হবে। যদিও সেই সম্ভাবনা খুবই কম। ট্রাম্প ইরানে হামলার চূড়ান্ত আদেশ দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে হওয়া ফোন কলে নেতানিয়াহুর অন্যতম যুক্তি ছিল শাসন পরিবর্তনের এই সম্ভাবনা।

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স অ্যাজেন্সি (সিআইএ) এর কয়েক সপ্তাহ আগেই জানিয়েছিল যে, খামেনি নিহত হলে তার জায়গায় সম্ভবত দলেরই কোনো কট্টরপন্থি নেতাকে বসানো হবে।

খামেনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প বারবার অভ্যুত্থানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী রাস্তায় টহল দিচ্ছে। লাখ লাখ ইরানি তাদের বাড়িতে আশ্রয়ে আছেন।

আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি, যাকে তার বাবার চেয়েও কট্টর যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বলে মনে করা হয়, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও

Archive Calendar

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031