উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের ছাদিরপুর গ্রামের মোশাহিদ মিয়ার ধান শুকানোর মাঠে (খলা) জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি ইঞ্জিনচালিত ট্রলি গাড়ি চালিয়ে মাটি খুঁড়ে ফেলে।
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের পল্লীতে দুই গ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় পৃথক সংঘর্ষে গিয়াস উদ্দিন (৫৫) ও আহাদ নুর (২৫) নামে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে দুই গ্রামের কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাঁস খাওয়ার বিষয়ে রফিনগর গ্রামে ও ধান শুকানোর মাঠে (খলা) গাড়ি চালানোকে কেন্দ্র করে ছাদিরপুর গ্রামে ওই দুই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী পৃথক সংঘর্ষে দু’জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত গিয়াস উদ্দিন রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর (কান্দাহাটি) গ্রামের তাহের উদ্দিন ছেলে এবং আহাদ নুর একই ইউনিয়নের ছাদিরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।
দিরাই থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৬ এপ্রিল) উপজেলার রফিনগর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে সুফাই মিয়ার কয়েকটি হাঁস নিহত গিয়াস উদ্দিনের পক্ষের কয়েকজন যুবক খেয়ে ফেলে। এ বিষয়ে হাঁসের মালিকের স্ত্রীসহ দু’জন নারী যুবকদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারপ্রার্থী হলে অভিযুক্তরা নারীদের সাথে অসদাচরণ করে তাড়িয়ে দেয়।
এরপর হাঁসের মালিকের বাড়িতে গিয়ে যুবকদের পক্ষে মুরব্বিরা গিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এর জের ধরে আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। তবে, সংঘর্ষের বিষয়ে একপক্ষ অপর পক্ষকে দায়ী করছে।
এদিকে বুধবার একই সময়ে উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের ছাদিরপুর গ্রামের মোশাহিদ মিয়ার ধান শুকানোর মাঠে (খলা) জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি ইঞ্জিনচালিত ট্রলি গাড়ি চালিয়ে মাটি খুঁড়ে ফেলে। এ নিয়ে মোশাহিদ মিয়া ও জাহাঙ্গীর হোসেনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।
এর কিছুক্ষণ পর দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। উপজেলা সদর থেকে ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে দু’টি গ্রামের সংঘর্ষে আহতদের রাত ৯টার পর দিরাই উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনি রানী তালুকদার রফিনগর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন ও ছাদিরপুর গ্রামের আহাদ নুরকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডাক্তার মনি রানী তালুকদার বলেন, নিহত দু’জনই বুকের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী পৃথক সংঘর্ষে দু’জন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, রাস্তায় আছি।