অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন আবার ফিরেছেন তার পুরোনো পেশায়। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আল জামিয়াতুল আরবিয়াতুল ইসলামিয়ায় (জিরি মাদরাসা) বর্তমানে তিনি নিয়মিত পাঠদান করছেন। সপ্তাহে দুদিন ক্লাস নেন তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। দায়িত্ব পালনকালে ২০২৫ সালের হজ কার্যক্রমে হাজিদের উদ্বৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার পদক্ষেপটি সারাদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। নির্বাচনের পর সরকারি দায়িত্ব শেষে সাবেক উপদেষ্টা গেলেন নিজের পুরোনো শিক্ষকতা পেশায়।
মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর সমমান) বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, হুজুরের ক্লাস আমরা খুব উপভোগ করি। তিনি শুধু পাঠ্য বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বাস্তব জীবনের নানা দিক নিয়েও আলোচনা করেন। আমাদের একজন শিক্ষক দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন-এটা আমাদের জন্য গর্বের।
প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম (মহাপরিচালক) মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব বলেন, তিনি ২০২১ সাল থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে সময় দিতে পারেননি। তবে দায়িত্ব শেষে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ইতিহাস ও হাদিস শাস্ত্র পড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, শিক্ষকতাই আমার মূল পরিচয়। জীবনের এই পর্যায়ে এসে আবার শিক্ষার্থীদের মাঝে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। বাকি সময়টুকু শিক্ষার সঙ্গেই কাটাতে চাই।
তিনি আরও জানান, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ব্যস্ততা কমানোর জন্য কিছু দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেইনি। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা ছিল- কোনো হাজি যেন হজে যেতে ব্যর্থ না হন।
ড. খালিদ হোসেন দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে (১৯৭৩-১৯৮৪) তিনি দৈনিক সংবাদ, দৈনিক বাংলার বাণী ও দ্য বাংলাদেশ টাইমস পত্রিকায় কাজ করেন। তিনি একজন খ্যাতিমান লেখক, গবেষক এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা।