নেপালের বিরুদ্ধে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালটি ১-১ গোল ব্যবধানে শেষ হওয়ার পথেই ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে চলছিল অতিরিক্ত ৬ মিনিটের খেলা। আর তখনই জয় সূচক গোল করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাতেই ২-১ গোল ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ নারী দল।
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দুইবার ফাইনালে এই নেপালকে হারিয়েই হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার শিরোপার হ্যাটট্রিক করার মিশন বাংলাদেশের সামনে।
যদিও খেলার ২৩ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। দিপা শাহীর কর্নার হাতে লাগিয়েও ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি মিলি আক্তার। বল চলে যায় একটু ফাঁকায় থাকা গিতার কাছে। তিনি সুযোগ বুঝে বলটি পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশের জালে।
এরপর অনেক চেষ্টা করলেও সমতায় ফিরতে বাংলাদেশের অপেক্ষা করতে হয় ইনজুরি সময়ে প্রথম মিনিট পর্যন্ত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে করা অলিম্পিক গোলে স্বস্তি ফিরে বাংলাদেশ শিবিরে। শেষ পর্যন্ত তার গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথম অর্ধ।
কোচ পিটার বাটলার ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেন। সুরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। শেষ দিকে আনিকাকে উঠিয়ে কোচ মাঠে নামান সাগরিকা। সেই সাগরিকাই বাংলাদেশকে ভাসান ফাইনালে ওঠার আনন্দে।
দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার চমৎকার বোঝাপড়ায় লিড নেয় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে ঢুকে শামসুন্নাহার গোলমুখে বল বাড়ান। সেখান থেকে কোনো ভুল করেননি সাগরিকা। নেপালের এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বল পাঠিয়ে দেন প্রতিপক্ষের জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। বাকি কয়েক মিনিট ওই লিড ধরে রেখে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা উঠে যায় ফাইনালে।
এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের কাছে টানা তিন খেলায় পরাজয়ের স্বাদ পেল নেপাল।