দেশের সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বশির আহমেদকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছরে মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ রাষ্ট্রীয় সম্মানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীতদের তালিকায় আট নম্বরে রয়েছে বশির আহমেদের নাম।
১৯৩৯ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া বশির আহমেদ উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন ও ওস্তাদ বড় গোলাম আলী খানের কাছে তালিম নেওয়া এই শিল্পী ষাটের দশকে বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের গানে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তার গাওয়া ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’, ‘যারে যাবি যদি যা’ ও ‘ডেকো না আমাকে তুমি’—এসব গান এখনও শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।
শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, তিনি গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত পরিচালক হিসেবেও নিজেকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৩ সালে ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং একুশে পদক লাভ করেন।
২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল ৭৪ বছর বয়সে এই গুণী শিল্পী পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তার মৃত্যুর পর পাওয়া এই সম্মাননা তার দীর্ঘ সংগীত সাধনার প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।