বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধে এক অভাবনীয় ও বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ভেতরে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তের নদী ও জলাভূমি এলাকায় কুমির এবং সাপ মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এই প্রস্তাবকে ‘হাস্যকর’ ও ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে। মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও মিজোরামের ৪০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের যেসব নদী ও জলাভূমিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেখানেই এই বিষধর সাপ ও কুমির ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তে অন্তত ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা এমন দুর্গম জলাভূমি, যেখানে সাধারণ নজরদারি চালানো কঠিন, সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের মনে ভয় তৈরি করতেই এই ‘প্রতিরোধমূলক’ ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিএসএফের ভেতরেই ব্যাপক বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সাবেক বিএসএফ মহাপরিচালক এবং পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকাশ সিং সরাসরি এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। তিনি একে একটি ‘মূর্খতাপূর্ণ’ চিন্তা বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, কুমির বা সাপ কখনো বুঝতে পারবে না কে অনুপ্রবেশকারী আর কে সীমান্তের জিরো লাইনে বসবাসকারী সাধারণ ভারতীয় নাগরিক। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে বন্যার সময় এই সরীসৃপগুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাহিনীর অনেক কর্মকর্তাই মনে করছেন, যখন বিএসএফ ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট বর্ডার অবজারভেশন’ সিস্টেম ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে, তখন এমন সেকেলে ও অপ্রচলিত পদ্ধতি প্রয়োগ করা যুক্তিসংগত নয়। বর্তমানে অত্যাধুনিক ক্যামেরা, সেন্সর, লেজার ও রাডার সিস্টেমের মাধ্যমে ডিজিটাল বেড়া তৈরির কাজ চলছে, যা অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠাবে। এই উন্নত প্রযুক্তির যুগে সরীসৃপ দিয়ে সীমান্ত রক্ষার প্রস্তাব অনেককেই অবাক করেছে।
আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আবারও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর প্রস্তাবটি সামনে এল, যেখানে অনুপ্রবেশের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে আপাতত বিষয়টি প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ